শিক্ষকদের নিয়ে দেয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বৃহস্পতিবার বিকালে সিলেট সার্কিট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বক্তব্যের দু:খ প্রকাশ করে প্রত্যাহার করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমার বলার কথা ছিল, তারা প্রকৃত সুপারিশ এবং সর্বোপরি সরকারি সিদ্ধান্ত না জেনেই আন্দোলনে নেমে গেলেন। তারা (শিক্ষকরা) পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। তারা জানতেন না, সিদ্ধান্ত কি হচ্ছে। আর সে অবস্থায়ই আন্দোলনে চলে গেলেন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আমার বলা উচিত ছিল, আন্দোলনটি অনবহিতির জন্য, তারা সঠিক তথ্য জানতেন না। আমি যেভাবে বক্তব্যটি দেই তাতে অবশ্যই শিক্ষকদের মানহানি হয়েছে। কারণ, ‘জ্ঞানের অভাবে’বলা আর ‘যথাযথ তথ্য সম্পর্কে অনবহিত’বলার মধ্যে তফাৎ রয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে নিজের এ বক্তব্য নিয়ে খুবই দুঃখিত বললেও অর্থমন্ত্রী বলেন, তবে তিনি বিস্মিত যে, তারা সরকারি সিদ্ধান্ত জানার আগেই আন্দোলনে নেমে যান।

সংবাদ মাধ্যমে নিজের ছাপানো বক্তব্য অনভিপ্রেত ছিল এবং তা প্রত্যাহার করেছেন বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। তাছাড়া এজন্য যারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন বা দুঃখ পেয়েছেন, তাদের কাছে অর্থমন্ত্রী বিনীত অনুরোধ জানান যে, ভুল বোঝাবুঝির এখানে সমাপ্তি হোক।

তিনি বলেন, বেতন কমিশন আসলেই একটি প্রতিনিধিত্বশীল কমিশন ছিল। এতে শিক্ষা পেশার চারজন সদস্য ছিলেন। ঘোষিত বেতন স্কেল ২০টি এবং অধ্যাপকেরা আগের মতোই সচিবদের সঙ্গে অবস্থান করছেন। সেই গ্রেডের বেতন পাবেন মাসিক ৭৮ হাজার টাকা। তবে অধ্যাপকদের এ গ্রেডে যেভাবে পদোন্নতি হয় সেটা বেশ অস্বচ্ছ।

৩৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জনবলের প্রাপ্ত তথ্য লিখিত বক্তব্যে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। হিসাব অনুযায়ী অধ্যাপক ২ হাজার ৯শ’৫২ জন, সহযোগী অধ্যাপক ১ হাজার ৯শ’৯৪ জন, সহকারী অধ্যাপক ৩ হাজার ৩শ’৯১ জন এবং প্রভাষক ২ হাজার ৮শ’২ জন। এখানে নিম্নশ্রেণীর পদের তুলনায় উচ্চশ্রেণীর পদ খুব বেশি।

আর তাদের আন্দোলনের আরো একটি বিষয় হচ্ছে স্বতন্ত্র বেতন স্কেল। সেই ইতিহাসে যাওয়া ঠিক হবে না উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শিক্ষকদের বেতন স্কেল আগে থেকেই আলাদা ছিল। তাদের দাবির মুখে ১৯৭৩ সালে একটি একক সার্বজনীন বেতন স্কেল হয়। তারপর থেকেই এই একক স্কেল ভাতা নির্ধারিত হয়ে চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী ও ইমরান আহমদ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ প্রমুখ।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্দোলনরত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, দেশের সবচেয়ে বেশি শিক্ষিত জনগোষ্ঠী জ্ঞানের অভাবে আন্দোলন করছে। শিক্ষকদের পদোন্নতির নিয়মটি নিজেরা তৈরি করে নিয়েছেন। তাই তাদের পদোন্নতি ব্যবস্থার সংস্কার করা হবে। পে-স্কেলে কি আছে, তারা না বুঝেই আন্দোলন করছেন। তারা সবাই অধ্যাপক হতে চান, তাদের দুনীতির এ চর্চা বন্ধ করা উচিত।

এদিকে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, মহাসচিব অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল এক প্রতিবাদ সমাবেশে অর্থমন্ত্রীকে তার বক্তব্যের জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দেয়।

কেএইচ