কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নে মোবাইল হারানোকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীদের ছোড়া এলোপাথাড়ি গুলিতে নারী ও শিশুসহ ৫ পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ সময় স্থানীয়রা স্বপন নামের এক হামলাকারীকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইউপির ২নং ওয়ার্ড বৈষ্ণব বাড়ির সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের আব্দুল লতিফের ছেলে আলা উদ্দিন (২৮), কিরন হোসেন (১০), নুরুল হুদার ছেলে মো. হোরন (২৫), নূর নবীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪০) ও আলী আহমদের ছেলে শেখ আহমদ (৪৫)। আটক স্বপনের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

আহত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে পাশ্ববর্তী উপজেলা সেনবাগের নবীপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের তোফায়েল মেম্বারের ছেলে কামরুজ্জামান মিরন চা পানের জন্য কবিরহাটের কালিরহাট বাজারের আজাদের দোকানে আসেন। পরে মিরন দোকান থেকে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর মিরন পুনরায় আজাদের দোকানে এসে তিনি ভুল করে একটি লোডের মোবাইল রেখে গেছেন, যাতে ২ লাখ টাকা আছে বলে দাবি করেন তিনি। এনিয়ে আজাদের সঙ্গে মিরনের বাকবিতণ্ডা হয়।

এ ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দু’টি মোটরসাইকেলযোগে মিরনের নেতৃত্বে ৬ যুবক নরোত্তমপুর ইউনিয়নের কালিরহাট বাজার সংলগ্ন বৈষ্ণব বাড়ির সামনে আসেন। তারা ওই স্থানে মোটরসাইকেল দু’টি থামিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে কালিরহাট বাজারের দিকে আসতে থাকে। এ সময় তাদের ছোড়া গুলিতে রাস্তায় থাকা নারী ও শিশুসহ ৬ পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়।

পরে বাজারে থাকা লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে তাদের ধাওয়া করে একটি মোটরসাইকেলসহ স্বপনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। অন্য হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহতদের মধ্যে চার জনকে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফরিদ উদ্দিন  জানান, আহত সবার শরীরে শর্টগানের গুলি লেগেছে। তবে তারা আশঙ্কামুক্ত।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে  জানান, ঘটনায় স্বপন নামের একজন আটক রয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেআই