অপরাধ দমনে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) চালু করা প্রযুক্তিনির্ভর তিনটি সেবামূলক কার্যক্রমের সুফল পেতে শুরু করেছে সেখানকার মানুষ। বন্দরনগরীতে গত ৩০ জুন ওই তিনটি সেবা কার্যক্রম চালুর পর নানামুখী সাফল্য মিলছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, নতুন এসব সেবা চালু হওয়ায় গত তিন দিনে নগরীর কোথাও উল্লেখযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। নগরীতে কমেছে গাড়ি চুরি, ছিনতাই এবং ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি।

চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার বাবুল আক্তার বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর তিনটি সেবা চালু হওয়ার পর থেকে নগরীতে ছিনতাই, গাড়ি চুরি বা এ ধরনের কোনো অপরাধ কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে দিনে বিভিন্ন অপরাধের খবর পাওয়া যেত।’ তিনি জানান, সিএমপির মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে নগরবাসী ফেসবুকে বিভিন্ন তথ্য আদান-প্রদান করছে।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, গত বুধবার সকালে ইমরানুল হক নামের এক যুবক নগরীর চকবাজার গুলজার ও কাঁচাবাজার এলাকায় যানজটের কথা মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে সিএমপিকে জানায়। এ খবর পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেন। মুহূর্তের মধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে ওই এলাকা যানজটমুক্ত হয়।

সিএমপির এক কর্মকর্তা আরও জানান, ডিজিটাল সার্ভিলেন্স সিস্টেমের আওতায় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করায় ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি কমেছে। নগরীর যেসব পয়েন্টে চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত থাকত অসাধু ট্রাফিক পুলিশ, গত দুই দিন সেসব জায়গায় তাদের দেখা যায়নি।

সার্ভিল্যান্স ক্যামরার নজরদারি থাকায় নগরীর জিইসি মোড়, নিউমার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাফিক সার্জেন্ট ও কনস্টেবলরা।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে জিইসি মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য বলেন, ‘চেহেরা-সুরত তো সবই ক্যামেরায় ধারণ করছে। বিশ-পঞ্চাশ টাকার জন্য চাকরি হারাব নাকি?’

অপরাধ দমনে চালু হওয়া চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এর ফিচারগুলো হলো-নিকটতম থানার অবস্থান, ঠিকানা, পথ নির্দেশনা, ফোন নম্বর, নগর পুলিশের সব সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের তথ্য ও ফোন নম্বর, ট্রাফিক পুলিশসহ অন্যান্য বিভাগের ফোন নম্বর,পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে মুহূর্তেই যোগাযোগ সুবিধা, ফেইসবুকে যে কোন তথ্য প্রদান কিংবা ভিডিও আপলোড করা এবং জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থার ফোন নম্বর প্রভৃতি।

গুগল প্লে স্টোর থেকে সিএমপি অ্যাপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করে ইন্সটল করা যাবে। অ্যাপ্লিকেশনটি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের উপযোগী।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার বাবুল আক্তার জানান, সিএমপি অ্যাপ্লিকেশনটি ভবিষ্যতে উইন্ডোজ ও আইফোনে ব্যবহারের উপযোগী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা, ৪ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই