দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে উখিয়া উপজেলার আড়াই লক্ষ মানুষের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে চলছে। উদ্ভোধন হতে যাচ্ছে বহুল প্রতিক্ষিত উখিয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে নির্মিত ফায়ার ষ্টেশন।
ইতিমধ্যে ফায়ার ষ্টেশন ভবনের রং সহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। শুধুমাত্র বিদ্যুৎ সংযোগ বাকি। তারপরই উদ্বোধনের তারিখ ঘোষনা করা হতে পারে বলে এমনটিই জানালেন, ফায়ার সার্ভিসটির সার্বিক দায়িত্বে নিয়োজিত কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী নেয়ামত এলাহী।
কক্সবাজার গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া উপজেলার কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক লাগোয়া বটতলী নামক স্থানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে গত ২০১১-১২ অর্থবছরে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে উখিয়ায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
মাঝপথে অর্থ ছাড় না পাওয়ার কারনে দীর্ঘ সময় এর নির্মান কাজ বন্ধ ছিল। ফলে নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ২০১৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর উখিয়া সফরে এসেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উখিয়াবাসীর স্বপ্নের ফায়ার ষ্টেশন উদ্বোধন করতে পারেননি।
এ সময় উখিয়ায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প উদ্বোধনের সময় উখিয়া ফায়ার ষ্টেশনটিও উদ্বোধনের কথা ছিল। পরবর্তিতে উখিয়া টেকনাফের এমপি আবদুর রহমান বদির প্রচেষ্টায় দেরিতে হলেও ফায়ার সার্ভিসের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে চট্রগ্রামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মা কনষ্ট্রাকশন। বর্তমানে তা উদ্ধোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।
কক্সবাজার ফায়ার স্টেশনের অতিরিক্ত এক উপপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, উখিয়া ও টেকনাফ দুই উপজেলার ফায়ার স্টেশন নির্মাণ কাজ একসাথে শুরু হয়। মধ্যে টেকনাফ উপজেলার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের নির্মাণকাজ শেষ হয় ৩ বছর পূর্বে। ইতোমধ্যে টেকনাফ স্টেশনে অগ্নিনির্বাপকের জন্য গাড়িসহ ১২ জন জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। উখিয়া ফায়ার সার্ভিসটির নির্মাণ কাজ কেন এত দেরি হলো সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তারা এর জবাব দিতে পারবেন।
ফায়ার ষ্টেশনটির নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মা কনস্ট্রাকশনের স্বত্ত্বাধিকারী নাজমুল হাসান পিশনের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভাই, টাকা ছাড়া কিভাবে কাজ শেষ করব, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে কাজ আটকে থাকায় আমরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তবুও কাজটা শেষ করতে পারায় ভালো লাগছে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার গণপূর্ত অধিদপ্তরের উখিয়া টেকনাফের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী নেয়ামত এলাহীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বরাদ্ধ না থাকার কারনে আড়াই বছর ফায়ার স্টেশনটি নির্মাণ কাজ বন্ধ ছিল, সে সময় সরকার একসাথে ৭৮ টি প্রজেক্ট নিয়ে একটা বাজেট করেছিল, ৭৮টির মধ্যে বাংলাদেশে এমন এলাকাও বর্তমানে আছে যেখানে অর্থাভাবে এখনো কাজই শুরু করা যায়নি।
দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর উখিয়ার ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনটি এখন শেষই উদ্ধোধনের প্রতিক্ষায় রয়েছে বলা চলে। পল্লীবিদ্যুতে মিটারের জন্য টাকা পয়সা জমা দেওয়া হয়েছে ৪ মাস পূর্বে। এখনো তারা বিদ্যুতের সংযোগ দেয়নি। শুধুমাত্র বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ার কারনে উদ্ধোধনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা যাচ্ছেনা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার ২০ দিনের মধ্যেই ফায়ার স্টেশনটি উদ্ধোধন করা হবে।
এমআইএস।





