ফরিদপুরের নগরকান্দায় যাত্রিবাহী বাসের সাথে কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ১৩ জনের মধ্যে সর্বশেষ ২ জনের পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন, নড়াইলের ডা. গোলাম রসুল শিকদার (৫০) ও যশোরের বাহাদুরপুরের আশা ইসলাম (৪৫)।
এদের মধ্যে ডা. গোলাম রসুল শিকদারের লাশ সনাক্ত করেছেন তার পুত্র ডা. তারেক। তিনি জানান, তার পিতা ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালের চিকিৎসক। চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে তিনি নড়াইল এসেছিলেন। রাতে হানিফ পরিবহনযোগে ঢাকা ফেরার পথে দুর্ঘটনাকবলিত হন। অপরদিকে, আশা ইসলাম হানিফ পরিবহনের চালক বলে জানা গেছে।
এছাড়া এখনো নিহতদের মধ্যে অপর ১১ জনের পরিচয় জানা যায়নি। দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ড ভ্যানটির চালক হেমায়েত ও হেলপার জুয়েলের সন্ধানও মিলেনি এখনো।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ড. কামরুজ্জামান সেলিম জানান, নিহতদের মধ্যে ২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।অন্যদের স্বজনেরা লাশ সনাক্ত করার পর তাদের লাশ সনাক্ত করা হবে।
তিনি জানান, আগুনে পুড়ে লাশগুলো বিকৃত হয়ে যাওয়ায় লাশ সনাক্ত কঠিন হয়ে গেছে। প্রয়োজন হলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে লাশ সনাক্ত করা হবে।
ড. কামরুজ্জামান সেলিম জানান, নিহতদের লাশ দাফনের জন্য নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে প্রদান করবে জেলা প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের নগরকান্দার গজারিয়া নামক স্থানে বাস ও কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটিতে আগুন লেগে যায়। দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয় ১৩ জনের। আহত হয় ৩৫ জন।
দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের কেউ কেউ আশপাশের লোকজনের সহায়তায় জানালা দিয়ে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়। এদের মধ্যে ৮ জনকে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় ৩ জনকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়।
দুর্ঘটনা এবং বাসে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ উদঘাটর করতে না পারলেও সংঘর্ষের পর গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার বিষ্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে উদ্ধার কাজ সমাপ্ত করা হয়।
দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দু’টি রাস্তার ওপর পড়ে থাকায় সড়কের উভয়পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোর রাতে পুড়ে বিধ্বস্ত হওয়া বাসটি পুলিশ র্যাকার দিয়ে সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নগরকান্দা থানার ওসি এএফএম নাসিম বলেন, আগুনে পুড়ে যাওয়ায় নিহতদের কাউকেই তাৎক্ষণিক সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিহতদের লাশ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
লাশ সনাক্তের জন্য নিহতদের স্বজনদের সেখানে যেতে অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ। লাশ পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তা সনাক্তে ডিএনএ টেস্টের প্রয়োজন হতে পারে।
এমবি





