রাজধানীর ৩ লাখ মানুষ ভোটার তালিকা হালনাগাদ থেকে বাদ পড়েছেন। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) গত সপ্তাহে ঢাকা মহানগরীর থানা কর্মকর্তাদের পাঠানো প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন ভোটারদের তালিকাভুক্ত করতে গত ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করার কর্মসূচি ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।কিন্তু নির্বাচন কমিশন থেকে নিযুক্ত তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার হতে ইচ্ছুকদের তথ্য সংগ্রহ করেননি বলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছেন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা।

এ অভিযোগ ওঠায় ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করে কমিশন।এরপরও ভোটার ইচ্ছুক অনেকে ভোটার হতে পারেননি বলে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে।এ পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর নির্বাচন কর্মকর্তাদের এ বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়ে দ্রুত একটি প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়।এ প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগরের নির্বাচন কর্মকর্তারা কোন থানায় কত হাজার ভোটার বাদ পড়েছে তার একটি তালিকা পাঠিয়েছেন।

এতে লালবাগ থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ভূঞা তার থানায় ৭০ হাজার ভোটার বাদ পড়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন।মতিঝিল থানা কর্মকর্তা মোসাম্মৎ নুর জাহান ১০ হাজার, সবুজবাগ থানা কর্মকর্তা মোসাঃ মাহফুজা আক্তার ২০ হাজার, কোতয়ালী থানা কর্মকর্তা বেগম ফারহানা ফাতেমা ৩০ হাজার, মিরপুর থানা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার ১০ হাজার, রমনা থানা কর্মকর্তা ৩০ হাজার, ধানমন্ডি থানা কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম ১০ হাজার ও   মোহাম্মদপুর থানা কর্মকর্তা ২০ হাজার, উত্তরা থানা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজালাল ২৫, তেজগাঁও থানা কর্মকর্তা মোঃ মমিন মিয়া ১০ হাজার, পল্লবী থানা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ২০ হাজার, সূত্রাপুর থানা কর্মকর্তা সৈয়দ আফজাল আহমেদ ১৮ হাজার, ক্যান্টনমেন্ট থানা কর্মকর্তা মুহাম্মদ এনাম উদ্দীন ১৫ হাজার,গুলশান থানা কর্মকর্তা আবু রেজা মোঃ দেলোয়ারুল হক ১২ হাজার ভোটার ইচ্ছুক বাদ পড়েছেন বলে নির্বাচন কমিশনে একটি তালিকা পাঠিয়েছেন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাজধানীতে ভোটার হতে ইচ্ছুকদের অনেকই বিভিন্ন ধরনের কাজে জড়িত।এ কারণে তারা ছুটির দিন ছাড়া বাড়ি থাকেন না।ফলে তালাবদ্ধ দেখে তথ্য সংগ্রহকারীরা ফিরে গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মোবারক বলেন, কেউ ভোটার হালনাগাদে অন্তর্ভুক্ত হতে না পারলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।আইন অনুযায়ী বাদপড়া ভোটাররা বছরের যে কোনো সময় ভোটার হতে পারবে।প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গেলে যে কোনো সময় ভোটার হওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকাসহ ১২০টি উপজেলায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে।বর্তমানে মোট সংখ্যা ভোটার ৯ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার ৬৪১ জন।এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ কোটি ৬১ লাখ ১৮ হাজার ২২০ জন এবং নারী ভোটার ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৩২ হাজার ৪২১ জন।নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৫ শতাংশ বৃদ্ধির হার ধরে ভোটার বৃদ্ধি হবে ৪৬ লাখ।

ঢাকা, এএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ