সাহেব আলী সর্দ্দার। ১৯৭১ সালের আগে সাহেব আলী ছিলেন আনছার বাহিনীর সদস্য। সে সময় দেশের টানে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। সক্রিয় অংশগ্রহনের পর পেয়েছেন লাল-সবুজের বাংলাদেশ। কিন্তু দেশ স্বাধীন করে কি পেয়েছে স্বাধীনতা? এমন প্রশ্নই বারবার উকি দেয় তার মনে।

মুক্তিযুদ্ধা সাহেব আলীর জন্ম গোপালগঞ্জ জেলার মুকসিদপুরে। সহায় সম্বল কিছু না থাকায় ১৯৮৮ সালের দিকে সেখান থেকে চলে আসেন কুষ্টিয়ার মিরপুরে।

পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড খন্দকবাড়ীয়ায় রেলের ধারে এক চিলতে জায়গায় ৪ মেয়ে এবং ১ ছেলে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। কৃষিকাজের পাশাপশি রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেন খুব কষ্ট করে।

এভাবেই চলতে থাকে তার কষ্টের জীবন। তারপর সাহেব আলীর শরীরে বাসা বাধে কঠিন অসুখ। তাকে দীর্ঘদিন থাকতে হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য।

তার শরীরে লিভারের সমস্যা দেখা দেওয়ার পর আর কাজকর্ম করতে পারে না। এরপর থেকে সে নেমে পড়ে ভিাক্ষাবৃত্তিতে। তবে সে এই ভিাক্ষবৃত্তিকে চরম অপমান ও লজ্জাবোধ মনে করেন। তারপরেও অনেকটাই বাধ্য হয়ে নিজ এলাকা ছেড়ে দুরে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করেন তিনি।

সংসারে চার মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে ছোট মেয়ে বাদে সকলেরিই বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে উচ্চ-মাধ্যমিক পাশ করেছেন। আর এই মেয়ের যদি একটা ভালো কোন চাকরি হয় তাহলে অন্তত সংসারের হাল সেই ধরতে পারতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহেব আলী সর্দ্দার বলেন, তিনি ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে।

৮ নং সেক্টরের অধীনে তিনি যুদ্ধ করেন। শীকারপুরে যুদ্ধের সময় তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। পাকিস্থানী বাহিনী এবং রাজাকার বাহিনীর কাজ ছিলো সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার ও নির্যাতন করা।

এতোসব নির্যাতন সয্য করেই পেয়েছেন স্বাধীনতা। কিন্তু স্বাধীন দেশে কি পেয়েছেন সাহেব আলী এমন প্রশ্নই সবার কাছে তার?

এমকে