জাতিসংঘ কর্তৃক দুইটি পুরষ্কার পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একটি হল 'চ্যাম্পিয়নস অব দি আর্থ' এবং টেকসই আইসিটি এ্যাওয়ার্ড। কিন্তু এ প্রধানমন্ত্রীর এ পুরষ্কারকে দেশের নয়, শুধু প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের বলে মন্তব্য করলেন বিমানবন্দরে যানজটের ভোগান্তিতে পড়া যাত্রী শাহাদাত হোসেন।
শাহাদাত বলেন, যদি প্রধানমন্ত্রীর পুরষ্কার এদেশের জনগনের জন্য হত, তাহলে তিনি বিদেশ থেকে আসলে জনগনকে কষ্ট দিতেন না। প্রতিবারই তিনি বিদেশ থেকে আসলে আমাদের এই দুর্ভোগের স্বীকার হতে হয়।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন থেকে ফেরা প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনার আয়োজনে বিভিন্ন সড়কে চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রাজধানীবাসীকে। শনিবার বেলা ১টায় হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে নামার পর সড়ক পথে সরাসরি গণভবনে যান। বেলা ২টায় তার গাড়ি বহর মহাখালী ফ্লাইওভার অতিক্রম করতে দেখা যায়।
এদিকে বিভিন্নস্থান থেকে নেতাকর্মীরা বিমানবন্দরে যাওয়ার সময় চলন্ত বাসের যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে বাস বিমানবন্দরে জোর করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন কিছু কিছু কোম্পানির বাসের চালকরা।
প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিতে সকাল থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মিছিল বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত সড়কের পাশে অবস্থান নেয়ার কারণে রাস্তার দুই পাশেই যানবাহন আটকা পড়ে। বিমানবন্দরের উভয় পাশের সড়কে ১টার দিকে চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ।
মোহাম্মদ আজিম নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক বলেন, বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে বিমানবন্দরের সামনেই আড়াই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি বলেন, ‘সরকারের লোকজন আগে থেকে জানাতে পারত এ রোড দিয়ে আসা যাবে না। তাহলে আসতাম না। আজকে তো জমার টাকাও হবে না।’
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দর থেকে খিলক্ষেত পর্যন্ত উত্তরা, দক্ষিণখান, উত্তরখান, তুরাগ, টঙ্গী ও গাজীপুর, খিলক্ষেত থেকে কুড়িল ফ্লাইওভার পর্যন্ত বাড্ডা, মতিঝিল, খিলগাঁও, সবুজবাগ; কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে হোটেল র্যাডিসন পর্যন্ত গুলশান, রমনা, ক্যান্টনমেন্ট, ডেমরা, শ্যামপুর; র্যাডিসন হোটেল থেকে বনানীর কাকলি মোড় পর্যন্ত কাফরুল, মিরপুর; কাকলির মোড় থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত বনানী, তেজগাঁও থানা।
জাহাঙ্গীর গেট থেকে গণভবন পর্যন্ত মোহাম্মদপুর, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান ও হাজারীবাগ থানা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা দাঁড়িয়েছেন। তারা এসেছেন মিনিবাসে চড়ে, বাসে চড়ে, ট্রাকে করে, কেউ কেউ ছাট ছোট মিছিল নিয়ে। প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁদের হাতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও ছোট ছোট পতাকা। সড়কের কোনো কোনো স্থানে আবার ব্যান্ড পার্টি বাজানো হচ্ছে। চলছে দেশাত্মবোধক গান।
এছাড়া, গুলশান থেকে মহাখালীমুখী সড়ক আমতলীতে আটকে দেওয়ায় সেখানে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
ফার্মগেইট এলাকায় দীর্ঘক্ষণ ধরে গাড়ি না পাওয়ার কথা জানান চাকরীজীবী আওলাদ হোসেন। ঈদের ছুটির পর গত কয়েকদিনে রাজধানীতে যানজট ছিল না বললেই চলে। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও যানজটে পড়তে হয়।
বিজয় সরণী থেকে চন্দ্রিমা উদ্যানের রাস্তার এক পাশে কৃষক লীগ অবস্থান নিয়ে ছিল। তাদের মুখে স্লোগান ছিল ‘শেখ হাসিনার জন্য/ বাংলাদেশ ধন্য’। এই সড়কের অন্য পাশে পূজা উদযাপন কমিটি, যুবলীগকে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
বিজয় সরণিতে অবস্থানরত যুবলীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মালিবাগ ইউনিটের সভাপতি কাজী মিন্টু বলেন, “নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে হাজারো মানুষের মতো আমিও উপস্থিত হয়েছি। দেশের জন্য তিনি পুরস্কার নিয়ে এসেছেন, এটি আমাদের সবার গর্ব।”
নিরাপত্তা্র বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, তারা বিভিন্ন এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছেন।
প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে বিপুল সংখ্যক মানুষ বিমানবন্দর ও তার আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করবেন জেনে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
র্যাবের মুখাপাত্র মুফতি মাহমুদ খান বলেন, নিরাপত্তা জোরদারে র্যাব বিমানবন্দর এলাকায় অতিরিক্ত টহলে ছিল।
বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের সহকারী কমিশনার তানজিলা আক্তারও বলেন, তারা সর্ব্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় ছিলেন।
ইআর





