কম্পিউটার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ১ মাস ৬ দিন ধরে বিকল হয়ে আছে গাইবান্ধা সদরের বিটিসিএল এক্সচেঞ্জ। কম্পিউটারের সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারে সমস্যা দেখা দেওয়ায় শহরের ১৩৩৭ ল্যান্ডফোন গ্রাহক পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
এছাড়া জেলা শহরের সরকারি-বেসরকারি অফিস থেকে শুরু করে জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানেরও ফোন, ফ্যাক্স ও ই-মেইল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কবে নাগাদ একচেঞ্জ ঠিক হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ।
গাইবান্ধা বিটিসিএল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা শহরে অবস্থিত তৎকালীন টিঅ্যান্ডটির এনালগ টেলিফোন এক্সচেঞ্জটি ২০০২ সালে এনালগ থেকে ডিজিটালে রূপান্তর করা হয়। সেই সঙ্গে এর অবস্থান শহরের পূর্বপাড়া থেকে বাংলাবাজার এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জটি উদ্বোধন করা হয় ২০০২ সালের ৫ অক্টোবর। এক্সচেঞ্জটির ক্ষমতা ২৩০০ হলেও এখন সংযোগ রয়েছে মাত্র ১৮০০টি।
পরবর্তী সময়ে এক্সচেঞ্জটি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড নামকরণ করা হলেও সেবার মান বাড়েনি। প্রায় তিন বছর আগে অন্তত ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পলাশবাড়ী উপজেলা শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার ভূর্গস্থ অপটিক্যাল ফাইবার কেবল সংযোগ দেওয়া হয় এ এক্সচেঞ্জে। যোগ হয় হাইওয়ে অপটিক্যাল সংযোগসহ সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে। দ্রুত ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার কথা বলে এ অপটিক্যাল সংযোগ স্থাপন করা হলেও আজও সাধারণ গ্রাহকরা কেউই সংযোগ পায়নি। উপরন্তু গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এ এক্সচেঞ্জের সব সংযোগ বিকল হয়ে পড়ে আছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রাহকের অভিযোগ, স্থানীয় বিটিসিএল (বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিডেট) গাইবান্ধা এক্সচেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের গাফিলতি, অদক্ষতা ও অবহেলার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
জানতে চাইলে গাইবান্ধা বিটিসিএল এক্সচেঞ্জের সহকারী পরিচালক কফিল উদ্দিন গাফিলতি ও অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, ‘এক্সচেঞ্জের কম্পিউটারের সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে এক্সচেঞ্জের আওতাধীন সব ল্যান্ডফোন বিকল হয়ে পড়েছে। এখন নতুন এ এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা চায়না কোম্পানি তাদের দেশ থেকে আমদানি করা নতুন হার্ডডিক্স না লাগানো পর্যন্ত এ এক্সচেঞ্জের আওতাধীন টেলিফোনগুলো সচল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক এহছানে এলাহী বলেন, ‘দ্রুত এক্সচেঞ্জের সমস্যা সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে। তারপরও কোনো সুরাহা হচ্ছে না।’
জেআই





