ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যা মামলায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ফেনী থেকে আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলো আনোয়ার ও আলাউদ্দিন।
একই রাতে ঢাকার বাড্ডা এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে ১৪ জনকে। তাদের মধ্যে আবির ওরফে আবিদ নামের একজন রয়েছে বলে র্যাবের একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে র্যাবের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু জানাননি।
র্যাবের একটি সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, একরাম হত্যা মিশনে অংশ নিয়েছিল আবিদ, রুটি সোহেল, পারভেজ ও হুমায়ুন। র্যাব সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার একরাম হত্যা মিশনে সরাসরি অংশ নেয় আবিদ। একরামের মাথায় ও বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করেছে সে। আবিদ ফেনী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়লা জেসমিনের ছোট ছেলে। লায়লা জেসমিন সম্পর্কে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম হাজারীর মামি।
র্যাব-১-এর পরিচালক লে. কর্নেল কিসমত হায়াৎ বলেন, একরাম হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই জড়িতদের ধরতে ঢাকাসহ সারা দেশে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে র্যাব। বৃহস্পতিবার রাতে বেশ কয়েকজনকে আটক করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই এ ব্যাপারে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এ টি এম হাবিবুর রহমানও বলেন, খুনিদের ধরতে র্যাব অভিযান চালাচ্ছে।
তবে সূত্র জানায়, ফেনীর একাডেমি এলাকায় একরামকে হত্যার দৃশ্য স্থানীয় এক ব্যবসায়ী তাঁর মোবাইল ফোনে ভিডিও করে রাখেন। পরে ভিডিওচিত্রটি পুলিশ ও র্যাবের কাছে দেন তিনি। ভিডিওচিত্র থেকে জড়িতদের চক্রকে শনাক্ত করেছে ফেনীর পুলিশ। ভিডিওচিত্রের সূত্র ধরেই জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফেনী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।
এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একরামের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মাহতাব উদ্দিন মিনার চৌধুরীকে গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক র্যাবের এক কর্মকর্তা বলেন, ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, আবিদ একরামুল হকের মাথা ও বুকে গুলি করছে। তার সঙ্গে আছে রুটি সোহেল, পারভেজ ও হুমায়ুন। তারা যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এলাকায় তারা ‘চার খলিফার গ্রুপ’ হিসেবে পরিচিত।
সূত্র জানায়, আবিদের বাবার নাম মোহাম্মদ বাবর। কয়েক মাস আগে তিনি মারা গেছেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে আবিদ ছোট। ফেনী স্টেডিয়াম এলাকায় তার বাসা। হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি রুটি সোহেল। হুমায়ুন ফেনীর একাডেমি ও বিরিঞ্চি এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত। প্রভাবশালী স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে সার্বক্ষণিক চলাফেরা করে সে।
পারভেজও একই ধরনের ক্যাডার। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক। র্যাবের ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, হত্যা মিশনে অংশ নেয় ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি স্কোয়াড। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে ১৪ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে আবিদ থাকতে পারে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ফেনী থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ইকবাল, শাখাওয়াত, আলাউদ্দিন ও আনোয়ারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তারা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া জেরার মুখে তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এতে করে একরাম হত্যায় কারা জড়িত তা খোলাসা হবে।
একরাম হত্যা মামলার বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, কোনো তদন্ত কর্মকর্তা এখনো তাদের সঙ্গে কথা বলেননি। এ ব্যাপারে এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে এসপি বলেন, প্রয়োজন হলে অবশ্যই যাবেন। তাদের অনেকের সঙ্গেই পুলিশের যোগাযোগ হয়েছে, হচ্ছে। ঢাকায় র্যাববের হাতে আবিরের আটক হওয়ার খবর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এসপি বলেন, ‘বিষয়টি সঠিক বলতে পারছি না। যারা আটক করেছেন, তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন।’ খুনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, জড়িতদের ধরার পর এ বিষয়ে বোঝা যাবে।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। রবিবার এ ব্যাপারে আদালতে শুনানির কথা রয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে ধরারও চেষ্টা চলছে।
[b]ঢাকা. ২৪ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]
জাতীয়
মাথা ও বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে আবিদ
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যা মামলায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ফেনী থেকে আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলো আনোয়ার ও আলাউদ্দিন। একই রাতে ঢাকার বাড্ডা এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে ১৪ জনকে।





