হজযাত্রীদের প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা নিয়ে নয়ছয় করছে হাব (হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) । আর তাদের মদদ দিচ্ছে খোদ ধর্ম মন্ত্রণালয়।
বিষয়টি আমলে নিয়ে সম্প্রতি এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও।
পাশাপাশি ২০১৬ সালের ওমরা ও হজ নীতিমালা সংশোধন করে বিষয়টি প্রত্যাহারেরও সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি।
কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও গেলেও সংসদীয় কমিটির এ সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি।ফলে হজযাত্রীদের জিম্মি করে এই টাকা আদায় অব্যাহত রেখেছে হাব।
জানা গেছে, ২০১৬ সালের ‘ওমরা ও হজ নীতিমালা‘ অনুযায়ী ব্যাংক স্টেটমেন্টে প্রতিস্বাক্ষর করতে হজযাত্রী প্রতি অতিরিক্ত ২০০ টাকা আদায় করছে হাব।
অন্যদিকে মোয়াল্লেম বা গাইড ফি বাবদ হজযাত্রীপ্রতি নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত আরও ৩ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে চলতি হজ মৌসুমে হজ যাত্রীদের পকেট থেকে বাড়তি ২ কোটি ৮২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আদায় করছে হাব।
গত ১৩ মার্চ হাবের এ দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে ধর্ম মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ২০১৬ সালের ওমরা ও হজ নীতিমালা অনুযায়ী হজযাত্রীর বা হজ এজেন্সির ব্যাংক স্টেমেন্টে হাবের প্রতিসাক্ষরের ব্যবস্থা রাখার বিষয়টি প্রত্যাহার করা জরুরি বলে মতামত দেয়। শুধু তাই নয়, হাবের দুর্নীতির সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের একাংশ জড়িত বলে মন্তব্য করে।
পাশাপাশি হাবের কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির সুযোগ বন্ধ করার বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিমালা সংশোধনের প্রস্তাব ওঠাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবকেও পরামর্শ দেয় কমিটি।
ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য ফজলুল হক হারুন। বৈঠকে অংশ নেন সংসদ সদস্য একেএম আওয়াল (সাইদুর রহমান), নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, দিলারা বেগম, মোহাম্মদ আমির হোসেন এবং আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামউদ্দিন।
এছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত সচিব আব্দুল জলিলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সংসদ সদস্য একেএম আওয়াল হজ এজেন্সি বা হাজিদের ব্যাংক একাউন্টে হাবের প্রতিস্বাক্ষর থাকার প্রয়োজন কেন, তা জানতে চান।
পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওমরা ও হজ নীতিমালায় এ বিষয়টি প্রত্যাহার করার জন্য তিনি কমিটির সুপারিশ মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের পরামর্শ দেন সচিবকে।
এদিকে হজযাত্রীদের কষ্টার্জিত অর্থ নিয়ে হাবের এই অপতৎপরতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাবের সাবেক নেতারাও।
গত ১৩ জুন রাজধানীর একটি হোটেলে হাবের সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বলা হয়, কমদামি হজ ট্রলিব্যাগ দিয়ে এর আগে কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এর হিসাবও হাবকে দিতে হবে।
এসএম





