কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় শতভাগ ডিজিটালাইজডের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করে এ দফতর থেকে সব ধরণের নাগরিক সেবা পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
তাৎক্ষণিকভাবে নাগরিক সমস্যা সমাধানের জন্য খোলা হয়েছে জেলা প্রশাসনের ফেইসবুক একাউন্ট। ফেইসবুকে নাগরিক সমস্যার কথা অবহিত করার সাথে সাথে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের পথ বাতলে দেওয়াসহ ব্যবস্থা গ্রহণ করায় জেলা প্রশাসকের ফেইসবুক একাউন্টটি দিনের পর দিন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
এদিকে সার্বক্ষণিক কর্মকান্ড মনিটরিংএর জন্য সম্প্রতি কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সব ধরণের সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করায় একদিকে যেমন সময় অপচয়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে তেমনি নাগরিক ভোগান্তিও বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে।
আর নাগরিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অন্যন্য অবদানের স্বীকৃতিও মিলেছে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের। এসব কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৫ এর পর্ব শ্রেণীতে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন আবারও খুলনা বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক হয়েছেন।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আইসিটি ডিভিশন, বেসিস, এটুআই এবং বিসিসি কর্তৃক তিনদিন ব্যাপী ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৫ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি থেকে তিন দিন ব্যাপী এ ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৫ প্রোগ্রাম উদ্বোধন করেন।
সম্প্রতি ঢাকায় এক অনাঢ়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ হোসেন পলকের হাত থেকে খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসকের পদক গ্রহণ করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন।
এর আগে প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে ঝড়ে পড়া হ্রাসসহ প্রায় শতভাগ উত্তীর্ণ হওয়ার গৌরব অর্জন করার কৃতিত্ব স্বরুপ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন খুলনা বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে নানা ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে কুষ্টিয়া জেলা।
কুষ্টিয়া জেলার ৬৭টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত খুলনা বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ২,৯১,৫০,৮৫০ টাকা আয় হয়েছে। এতে ৬৪২০৬৭ জন মানুষ সেবা পেয়েছেন।
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করেছেন ১৮,৫৩,৫৬২ জন। এ পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলায় ৭৫টি ওয়েবপোর্টাল খোলা হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ টির অসম্পুর্ণতার হার ০% থেকে ০৪% এবং ৫টির অসম্পুর্ণতার হার ৫% থেকে ৬%। “কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন” নামক একটি মোবাইল অ্যাপস বিনামূল্যে জনগণের নিকট বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা ই-সেবা কে›ন্দ্র সরকারের একটি ব্যতিক্রর্মী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে সরকার জনগণের দোরগোড়ায় তথ্য সেবা পৌছে দিয়েছে। এই পদ্ধতিতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়নে নাগরিক, দাপ্তরিক ও নকলের আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি ডকুমেন্ট গ্রহণ নম্বর প্রদান করা হয় এবং দ্রুততম সময়ে সেবা নিশ্চিত করা হয়।
এছাড়া সময় সাপেক্ষে আবেদনের ক্ষেত্রে এর অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করা হয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌছে দেওয়ায় এই ই-সেবা কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানের ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক পদ্ধতিতে দাপ্তরিক কর্মকান্ড সম্পাদন ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি দপ্তরসমূহের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তবৃন্দের মধ্যে আন্ত:যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে বর্তমানে ভিডিও কনফারেন্সিং এর ব্যবহার ক্রমান্বয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সরকারের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে ৮ টি তাৎক্ষণিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তা চলমান রয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলার ৭ টি ইনোভেশন আইডিয়ার মধ্যে ৫ টি ইনোভেশন আইডিয়া বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মধ্যে অন দ্যা স্পট মিউটেশন ইনোভেশন আইডিয়াটি সর্বসাধারণের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের কার্যালয়, সার্কিট হাউজ, উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, এলজিইডি অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই ফাই জোন স্থাপন করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলা হতে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে গত বছর বেসিস কর্তৃক ১০ জন এ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে লার্নিং এন্ড আর্নিং, মোবাইল এপ্লিকেশন উন্নয়ন, ফ্রিল্যান্সার টু ইন্টারপ্রেরনার শীর্ষক মোট ১৯৮ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে এবং প্রশিক্ষণের জন্য আইসিটি সরঞ্জাম প্রদান করা হয়েছে।
এসএইচ





