জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর শ্বশুর মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরীর জানাজায় হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ।
আজ (২২ জুন) শনিবার বাদ জোহর নগরী চট্টগ্রাম কলেজ মাঠে (প্যারেড মাঠ) বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জানাজায় অংশ নেয়া এক শিক্ষানবীশ আইনজীবীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির নেতারা।
জানা গেছে, মোমিনুল হকের জানজায় শরীক হতে সাধারণ লোকজন ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা দুপুর দেড়টার দিকে প্যারেড মাঠে জড়ো হয়। জানাজা শুরু আগ মুহূর্তে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ছাত্রলীগের একটি মিছিল নিয়ে জানাজার দিকে এগুতে থাকলে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় জানাজায় অংশগ্রহনকারী মুসল্লিদের লক্ষ্য করে ছাত্রলীগ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে জানাজায় অংশগ্রহণকারীরাও পাল্টা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে প্রতিহত করে। এসময় শিক্ষানবিশ আইনজীবী মোহাম্মদ জোবায়েরসহ পাঁচজন আহত হয়।
স্থানীয় জামায়াতেরনেতাদের দাবি, পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকার কারণে ছাত্রলীগ জানাজায় হামলার উৎসাহ পায়।
এক বিবৃতিতে জামায়াত বলেন, “তারা এতটাই সন্ত্রাসী যে, একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় বিশিষ্ট আলেমে দ্বীনের নামাজে জানাজা পর্যন্ত সহ্য করতে পারে না।”
চকবাজার থানার ওসি নিজাম উদ্দিন জানান, মওলানা মোমিনুল হকের জানাজা শুরুর আগে চট্টগ্রাম কলেজের কিছু ছাত্র মিছিল নিয়ে গেলে উত্তেজনা তৈরী হয়। আমাদের পুলিশ জানাজার মুসল্লি ও মিছিলকারী ছাত্রদের মাঝামাঝি অবস্থান নিয়ে কোনো ধরণের সংঘাত করতে দেইনি। পরে মিছিলকারীদের ধাওয়া দিয়ে এলাকা ত্যাগ করে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।
ইসলামী ছাত্রশিবির নগর (দক্ষিণ) সভাপতি হাসান আব্দুল্লাহ জানান, ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই শান্তিপূর্ণ জানাজায় হামলা করে, জানাজার মাঠে মুসল্লিদের উপর ইট-পাটকেল ছুঁড়তে দেখা যায়। এসময় ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ তাদের জনশক্তিদেরকে ছাত্রলীগের সাথে হেচিংয়ে না গিয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে জানাযা শেষ করে চলে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়।
কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ বলেন, জামায়াতের নেতা মুমিনুল হক চৌধুরীর জানাজায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নিতে আসে। তাদের মধ্যে নগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি’সহ কয়েকজন শিবির ক্যাডার ছিল। তাদের দেখে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ধাওয়া দেয়।
শনিবার (২২ জুন) ভোরে মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরী ইন্তেকাল করেন। সকাল সাড়ে ৮টায় ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে প্রথম জানাজা, দ্বিতীয় জানাজা আইআইইউসি ক্যাম্পাসে এবং তৃতীয় জানাজা চট্টগ্রাম প্যারেড মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। সাতকানিয়া তুলাতলী হাইস্কুল মাঠে চতুর্থ জানাজা শেষে থাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানা যায়।
মাও. মুমিনুল হক চৌধুরীর জানাজায় ছাত্রলীগের হামলায় জামায়াতের প্রতিক্রিয়া
চট্টগ্রামের প্যারেড মাঠে মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরীর নামাজে জানাজায় ছাত্রলীগের ক্যাডারদের হামলায় শিক্ষানবিশ আইনজীবী মো. জোবায়েরসহ ৫ জন মুসল্লী আহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
আজ (২২ জুন)দলটির সেক্রেটারী জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, “চট্টগ্রাম প্যারেড মাঠে অনুষ্ঠিত মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরীর নামাজে জানাজায় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী ক্যাডারদের হামলায় শিক্ষানবিশ আইনজীবী মো. জোবায়েরসহ ৫ জন মুসল্লী আহত হওয়ার ঘটনার আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”
“তারা এতটাই সন্ত্রাসী যে একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় বিশিষ্ট আলেমে দ্বীনের নামাজে জানাজা পর্যন্ত সহ্য করতে পারে না।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “হযরাত মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরীর জানাজায় হামলার ঘটনার মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগের ইসলাম বিরোধী সন্ত্রাসী চরিত্রই অত্যন্ত নগ্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডেও পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকার মধ্য দিয়ে তাদের প্রতিহিংসাপরায়ণ কর্মকাণ্ড অত্যন্ত নগ্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এই ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা কখনো কারো কাম্য হতে পারে না।”
“এই ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে যথাপোযুক্ত শাস্তি প্রদান করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
আজ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের এম. আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেসবার্তায় এই এই আহ্বান জানান।
এমবি





