১৫ আগস্ট শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভায় সামনে বসা নিয়ে ছাত্রলীগের দু'গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে শরীয়তপুর সরকারি কলেজের প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজিত শোকসভায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পালং মডেল থানা পুলিশ। এ নিয়ে ছাত্রলীগের দু'গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ছাত্রলীগ কর্মী সাগর ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর সরকারি কলেজের প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ওই আলোচনা সভায় জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক টিপু গ্রুপের কর্মী অনিক মাদবর, মিজান মুন্সি, বাহাদুর সিকদার ও আশরাফ ফকির সঙ্গে জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোহসীন মাদবর গ্রুপের সোহেল ঢালি, সুমন তালুকদার, সোহাগ হাওলাদার ও মকবুলদের বসাবসি নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়।
এর এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় সোহেল, মকবুল, সুমন, সজল, সুজন, সাকিল, রবিন, শামিম, ইমন, আল আমিন কাজি ও রুবেলসহ প্রায় ২০ জন আহত হয়।
আহতদের মধ্যে অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্র সোহান হাওলাদাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পরে পালং মডেল থানার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় আহত সোহান হাওলাদারের বাবা হারুন-অর-রশীদ বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৭ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ইকবাল হোসেন টিপু কোতোয়াল, মো. রাজিব দেওয়ান, জাহিদ হাসান বাপ্পি, আলি আজম মাদবর, সাগির হাওলাদার, রাসেল সরদার ও রাজিব হাওলাদার।
জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক টিপু কোতোয়াল বলেন, আমার সমর্থক ৪জন ছাত্রলীগ কর্মীকে সভাস্থলে বসাচ্ছিল। এ সময় জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোহসীন মাদবরের সমর্থকরা মারধর করে বের করে দেয়। এ নিয়ে সংঘর্ষ বাধে।
জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোহসীন মাদবর বলেন, শরীয়তপুর সরকারি কলেজে ১৫ আগস্টের আলোচনা সভা চলাকালে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক টিপু কোতোয়ালের নেতৃত্বে কতিপয় ছাত্রলীগ নামধারী কলেজে ঢুকে ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের ছাত্রলীগের কর্মীরা আহত হয়েছে। আমি এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাই ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।
পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, শরীয়তপুর সরকারি কলেজে শোক দিবসের অনুষ্ঠানে সামনে বসাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে।
এমএনজে





