শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ দাবি করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) অসত্য ও ভুল তথ্য নিয়ে গবেষণা করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা টিআইবির বিরুদ্ধে লড়াই করছি।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, 'গুরুত্বের সঙ্গে টিআইবি প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেনি। এর সঙ্গে জাতীয় ইমেজ জড়িত। আমরা পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়ে সোমবার টিআইবিকে চিঠি দিয়েছি। টিআইবি আমাদের সঠিক তথ্য দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘টিআইবি একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান। তাদের গবেষণা প্রতিবেদনগুলো মানুষ খুব গুরুত্ব সহকারে নিয়ে থাকে। গত ৩০ জুন টিআইবি ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। দেশের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াগুলো সেখান থেকে নেয়া নেতিবাচক দিকগুলো ফলাও করে প্রকাশ করেছে।’
মন্ত্রী অভিযোগ করেন, টিআইবির রিপোর্টে অসত্য ও ভুল তথ্য দিয়েই শুরু করেছে। বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ২৯৭ শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছে, যা ২০১২ সালে ছিল ৭ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন। প্রকৃত তথ্য হলো- ২০১২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছে ৭ লাখ ২১ হাজার ৯৭৯ জন। ২০১৩ সালে পাস করেছে ৭ হাজার ৪৪ হাজার ৮৯১ জন। ২০১৩ সালের পাস করা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৯৪ জন কম দেখানো হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, রিপোর্টে ২০১২ সালের হিসাব উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৬০টির মধ্যে ৪৭টি ঢাকায় অবস্থিত অর্থাৎ সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ৯৪টি। টিআইবির হিসাব অনুযায়ী ৬০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকায় ৪৭টি। ২০১২ সালে দেশে মোট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৩৩টি। এর মধ্যে ঢাকাতে ৫টি। তাহলে সরকারি সবকটিকে ঢাকায় তুলে আনলেও বাকি থাকে আরও ১৩টি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘রিপোর্টে একজন তথ্যদাতার তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ অর্থ লেনদেন ও জড়িত ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে একটি সারণি দেয়া হয়েছে। সেখানে লেনদেনের খাত ও পরিমাণ দেয়া হলেও জড়িত ব্যক্তিদের কোনো উল্লেখ নেই। এই তথ্যদাতার নাম, পরিচয়ও উল্লেখ নেই। এই তথ্যদাতা কোন পর্যায়ের মানুষ ও তার তথ্যের ভিত্তি কী, সেটিও জানানোর দরকার ছিল। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী। ইউজিসি ও মন্ত্রণালয় তা প্রসেস করে। শুধুমাত্র একজন তথ্যদাতার তথ্যের ভিত্তিতে এমন ঢালাও অভিযোগ প্রকাশ করা কতটা নৈতিক ভিত্তিসম্পন্ন? লেনদেনকারী ব্যক্তিরা কারা?’
শিক্ষামন্ত্রীর অভিযোগ, টিআইবি ৩০ জুনে সংবাদ সম্মেলন করে নেতিবাচক এই সারণিটি অধিক গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে। শুধু এই সারণিটি ব্যবহারে সাংবাদিকদের উস্কে দেয়া হয়েছে। ‘রিপোর্টে মূখ্য তথ্যদাতা হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির কর্মকর্তার কথা উল্লেখ আছে। তবে তথ্য পাবার জন্য তারা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেনি। তারা কোনো চিঠিপত্র দেয়নি। এই গবেষণা তো কোনো গোপন কর্মকাণ্ড নয়। দুই বছর ধরে এতো বড় আন্তর্জাতিক মানের একটি গবেষণার কাজ তো গোপনে চলতে পারে না’।
তিনি আরও বলেন, ‘টিআইবি ৭৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ২২টি নিয়ে গবেষণা করেছে। ২২টির নাম দেয়া উচিত ছিল। সেগুলো কখন কখন অনুমোদন পেয়েছে সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। রিপোর্টে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৯২-এর সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হয়েছে। যেহেতু নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ চালু হয়েছে এখন এসব দুর্বলতা তুলে ধরা কতটা প্রয়োজনীয়।
ঢাকা, ১৫ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ





