গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের তিলকপাড়া গ্রামের ঐতিহাসিক পবিত্র স্থান পীর, আউলিয়া, দরবেশদের হাট পীরেরহাট অন্যতম হলেও এখন তা সংরক্ষণের অভাবে অনেকটা বিলুপ্তির পথে।
কাগজে কলমে মৌজার নাম তিলকপাড়া হলেও সারা দেশে এই এলাকাটি পীরেরহাট নামে পরিচিত।
জনশ্রুতি আছে যে, এক সময় বিভিন্ন এলাকার ৪ তরিকার একাধিক পীর-আউলিয়া, ধর্মীয় সাধক-দরবেশগণ এখানে একত্রিত হয়ে বৈঠক করতেন। এখানে রয়েছে ৪১ জন পীরের মাজার। সেজন্য এ স্থানের নাম হয়েছে পীরেরহাট।
এ পর্যন্ত তিন পীরের মাজারের সন্ধান পাওয়া গেলেও বাকিগুলো এখনো বাতুনি রয়েছে। এই পীরেরহাট মাজার কত’শ বছর আগে স্থাপিত হয়েছে তার কোন সঠিক দিন-তারিখ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
প্রায় ৩ একর খাস জমির উপর এই পীরেরহাটে একটি মসজিদ, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি বিশাল ঈদগাহ মাঠ, একটি দরগা শরীফ, বিশাল আকারের ৮-১০টি শতবর্ষী বট গাছসহ মাঝখানে রয়েছে একটি কেরামতি পুকুর।
যুগযুগ ধরে দেশের নানা এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ এখানে এসে বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের জন্য নিয়াত করে পুকুরের পানি পান করে। তবে এই পানির রং সর্বদাই ঘোলা।
তিলকপাড়া গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি মজিবর রহমান ও খামারপাড়া গ্রামের সমুজ উদ্দিন জানান, তারা বাপ-দাদার মুখে গল্প শুনেছেন এক সময় এই পুকুরে সোনার ডালা ও চালন ভাসতো।
এই পুকুরের পানি মানুষ রোগ নিরাময়ের আশায় যুগযুগ ধরে পান করে আসছে আর এই এলাকাটি জ্বিন-পরী, দত্ত ও দানবে ছিল ভরপুর।
তাই দিনের বেলা লোকজন এ এলাকায় বিভিন্ন প্রয়োজনে এলেও রাতের বেলায় এখানে কেউ আসার সাহস পেত না। তবে কোলাহলমুক্ত এই এলাকাটিতে বিশাল বিশাল বট গাছ থাকায় প্রচন্ড গরমে বেশ ঠান্ডা।
শোনা যায়, এক সময় এখানে হাট-বাজার বসতো, সময়ের ব্যবধানে তা বিলীন হয়ে গেছে। এখন শুধু মাত্র বছরে চৈত্র মাসের শেষে অষ্টমির পরের প্রথম শনিবার এক দিনের জন্য বারুণীর মেলা বসে।
মেলায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। এই মেলা ছাড়াও আরবী মহররম মাসের ১০ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় ওরস শরীফ। ওরসে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষের আগমন ঘটে।
এসএইচ





