আদিবাসীদের ভূমি অধিকার সংরক্ষণে কার্যকর ভূমি কমিশনের দাবি জানিয়েছেন আলোচকেরা। তাঁরা বলেন,আদিবাসীদের জন্য ভূমি অধিকার শুধু মৌলিক অধিকার নয়,এটি তাঁদের অস্তিত্বের দাবি। কারণ,ভূমি হচ্ছে আদিবাসীদের জীবন ও সংস্কৃতির ধারক।

শনিবার বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত 'সমতলের আদিবাসীদের ভূমি অধিকার,সমস্যা ও বঞ্চনা' শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভালপমেন্ট (এএলআরডি) এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে এএলআরডির পক্ষে 'সমতল ভূমিতে বসবাসকারী আদিবাসীদের ভূমি অধিকার ও সমস্যা' নিয়ে অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন উন্নয়ন গবেষক আবুল হোসেন।

সহযোগী পরাগ রিছিলকে নিয়ে তৈরি করা এ প্রতিবেদনে তিনি ময়মনসিংহ,টাঙ্গাইল,রাজশাহী ও দিনাজপুর এলাকায় বসবাসকারী আদিবাসীদের ভূমি নিয়ে বঞ্চনা,ভূমি হারানোর প্রক্রিয়া এবং সর্বোপরি তাঁদের দেশত্যাগের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

কলাম লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, 'এই গবেষণাপত্রের মাধ্যমে আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই,যাতে সমতলের আদিবাসীদের ভূমিসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হয়।'

একটি গবেষণাপত্রের বরাত দিয়ে তথ্য কমিশনার সাদেকা হালিম বলেন,সমতলের ১১টি গোষ্ঠীর আদিবাসীরা এ পর্যন্ত যে পরিমাণ জমি হারিয়েছে,তার মূল্য ৬২ দশমিক সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ ছাড়া আদিবাসী নারীদের ওপর বিভিন্ন সহিংসতার মূল কারণ তাদের জমি দখল করা।

অধ্যাপক মেজবাহ কামাল বলেন,সম্পদের মালিকানা নিয়ে আদিবাসীরা খুব বেশি জোর দিতে পারে না। কারণ,সংবিধানেই জমির যৌথ মালিকানা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা নেই। অনেক আদিবাসী ১৮৫২ সাল থেকে জমির খাজনা পরিশোধ করেও সেই জমি থেকে উচ্ছেদ হচ্ছে,শুধু সংবিধানের এই নিয়মের কারণেই।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন,আদিবাসীদের প্রতি রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি কী,সেটাই আগে নির্ধারণ করতে হবে। আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতিই নেই। পাশাপাশি প্রশাসন অবস্থান নেয় আদিবাসীদের জমি দখলদারীদের পক্ষে,সে ক্ষেত্রে আদিবাসীরা কীভাবে নিরাপদ বোধ করবে।

এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদার সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের উপনির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান।

ঢাকা, ২৮ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ