জেলা সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় ধীরগতিতে কমছে নদ-নদীর পানি। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ঘাঘট, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা ও করতোয়াসহ সবগুলো নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে ঘাঘট নদীর পানি এখনও বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এদিকে নদ-নদীর পানি কমা শুরু করলেও কমেনি বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ-দুর্দশা। প্রতিদিনেই বন্যাকবলিত এলাকার পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। বন্যাত এলাকার মধ্যে এখন সবচেয়ে প্রকট আকার ধারণ করছে বিশুদ্ধ পানি।
মঙ্গলবার দুপুরে বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বন্যার পানি কমতে শুরু করায় বেশকিছু এলাকায় ব্যাপক আকারে নদীভাঙন শুরু হয়েছে।
গত দু’দিনে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর, কাপাসিয়া ও চণ্ডিপুর, ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া, এরেন্ডবাড়ী, ফজলুপুর ও ফুলছড়ি এবং সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ও ভরতখালী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার ভাঙনে প্রায় ২৫০ বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
এদিকে বন্যাদুর্গত সদর উপজেলা, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডায়রিয়া, চর্মসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের বিস্তার ঘটেছে।
গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. আহাদ আলী জানান, জেলার বন্যাকবলিত চার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৫০টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকায় পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত প্রায় ৭০ অসুস্থ ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেয়া হয়।
তবে সরকারি যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে তা অপ্রতুল। বেসরকারি ত্রাণও বিতরণের তৎপরতা তেমন নেই। এছাড়া সুন্দরগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলার বন্যাকবলিত মানুষরা অভিযোগ করেছেন, বন্যায় অনেকে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হলেও স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো তৎপরতা তারা এখনও লক্ষ্য করেননি।
মঙ্গলবার দুপুরে ফুলছড়ি উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকার চরাঞ্চলের (গাবগাছি) চরে তিন শতাধিক পরিবারের মধ্যে এক জেরিকেন ও এক কলসভর্তি বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করেছে অক্সফ্যাম জীবির সহযোগিতায় গাইবান্ধার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গণউন্নয়ন কেন্দ্র।
জেলা প্রশাসক এহছানে এলাহী জানান, এবারের বন্যায় জেলার চার উপজেলার ৩০ ইউনিয়নের প্রায় দেড় লাখ মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যাকবলিত এলাকায় ১৭ হাজার ৭৪ ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ৩৬ হাজার কৃষকের তিন হাজার ৪২৯ হেক্টর ফসলি জমি বিনষ্ট হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের বেড়া গ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, আলু, লবণ সংবলিত প্যাকেট খাবার ও ৩০০ পরিবারের মধ্যে ছয় টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। অন্য বন্যাদুর্গত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ ও টাকা বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক আবদুল আউয়াল জানান, দুদিন ধরে জেলার নদ-নদীর পানি কমছে। ধীরগতিতে এসব নদ-নদীর বন্যার পানি কমলেও বর্তমানে জেলায় বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





