বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলায় বাঙ্গালী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার ফলে হুমকিতে পড়েছে ব্রীজ, আবাদি জমি, রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি।

দিনের বেলায় এভাবে বালু উত্তোলন করলেও নজরে পড়ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বাঙ্গালী নদী। সেই নদীর বিলচাপড়ী সেতুর পাশেই হাসাপোটলে ভাড়া করা শ্যালো মেশিন বসিয়ে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হাসাপোটল গ্রামে নদীর বুকে ভাসমান ড্রামের ওপর ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পাইপের মাধ্যমে নদীর তলদেশ থেকে বালু তোলা হচ্ছে। স্থানীয় দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি এই বালু বিক্রি করছে।

বালু তোলার কাজে ব্যবহৃত শ্যালো মেশিনের মালিক জুয়েল রানা বলেন, ৭০ হাজার টাকা চুক্তিতে তারা বালু উত্তোলন করছেন। তবে এই বালু উত্তোলনের বিষয়ে প্রশাসনের নিকট থেকে কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার এক শিক্ষক ও ব্যবসায়ী বলেন, বাঙ্গালী নদীর পানি কমার পাশাপাশি কয়েক মাস ধরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই ভাঙনের ফলে হাসাপোটল-বিলচাপড়ী রাস্তা, আবদি জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে।

বিলচাপড়ী ব্রীজ ভেঙ্গে গেলে বগড়া শহরের সঙ্গে ধুনট উপজেলাবাসির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

বাঙ্গালী নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য স্থানীয় গ্রামবাসি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন। কিন্তু তিনি কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুর রহমান বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমাকে অবগত করেছেন। কিন্তু দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা সম্ভব হয়নি। তবে এ বিষয়টি জরুরী ভাবে তদন্ত করে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেআই