রমজানে মুড়ির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন আলোনিয়া গ্রামের কারিগররা। হাতে তৈরি মুড়ির সুখ্যাতি কমে যায়নি। বিশেষ ধরনের চালের সঙ্গে লবণ ও পানি দিয়ে তৈরি হচ্ছে এই মুড়ি। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের তৈরি এই মুড়ির স্বাদেও রয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট্য। চলতি রমজানে মুড়ির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কারিগররা।
চাঁদপুরের আলোনিয়া গ্রামে প্রতিদিন উৎপাদিত দেড় থেকে ২০০ মণ মুড়ি জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্যত্র চালান হচ্ছে। এতে টাকার হিসাবে দৈনিক লেনদেন হচ্ছে সাড়ে পাঁচ-ছয় লাখ টাকা। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম আলোনিয়া গ্রামের শতাধিক হিন্দু পরিবার ৫০ বছর ধরে মুড়ি তৈরি করছে।
কিন্তু মেশিনে তৈরি, বিষাক্ত পদার্থ এবং ভেজাল মেশানো মুড়ির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকা অনেক কঠিন হয়ে পড়ছে। মুড়ি তৈরির কারিগররা নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ঘিগজ জাতের ধান সংগ্রহ করেন। পরে তা নির্ধারিত সময় পানিতে ভিজিয়ে লবণ-পানি মিশিয়ে উনুনে ভেজে মুড়ি তৈরি করেন।
সুদর্শন ও পরিমল দাস নামে দুজন মুড়ি কারিগর জানান, ঘিগজ ধানের চালের সঙ্গে লবণ-পানি মিশিয়ে তাঁরা মুড়ি তৈরি করেন। ফলে স্বাদ ও গন্ধে এই মুড়ির বেশ চাহিদা রয়েছে। প্রতি কেজি মুড়ি তৈরিতে ৬৮-৭০ টাকা খরচ হয়। পরে পাইকারি দরে তা ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। একটি পরিবার দৈনিক দেড় মণ মুড়ি তৈরি করে। তবে রমজান মাসে এই মুড়ির চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তাই এখন দিন-রাত মুড়ি ভেজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কারিগররা।
মুড়িপল্লীর নেতা সাবেক স্কুলশিক্ষক চিরজীবন দাস বলেন, 'বাজারে মেশিনে তৈরি, বিষাক্ত পদার্থ ও ভেজাল মেশানো মুড়ির দাম অনেক কম। সে ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করে আলোনিয়া গ্রামের মুড়ি কারিগররা অনেক কষ্টে টিকে আছেন।'
ঢাকা, ২১ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





