সিলেটে নিয়মনীতি ছাড়াই চলছে জনশক্তি ব্যবসা। লন্ডন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়ে দেয়ার নিশ্চয়তাসহ নানান লোভনীয় বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন লোকজন। সংশ্লিষ্টরা এর সত্যতা স্বীকার করলেও প্রতিকারে কেউ এগিয়ে আসছেননা। তবে ঢাকা, চট্টগ্রামের পর সিলেটে মধ্যপ্রাচ্যের ভিসা প্রত্যাশীদের ফিঙ্গার প্রিন্ট গ্রহণের ব্যবস্থা করায় প্রতারণা কমে যাচ্ছে বলে জানালেন সংশ্লিষ্টরা।

বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে বিদেশে যেতে আকৃষ্ট করছেন সিলেটের অবৈধ ট্র্যাভেল এজেন্সিগুলো। দিন দিন এই বিজ্ঞাপন প্রকাশের হার বাড়লেও দেখার তেমন কেউ নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন অনেকে।

সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং লাইসেন্স ছাড়া আর কেউ ম্যানপাওয়ার ব্যবসা করতে পারেনা। কিন্তু সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে লোকজনের সাথে প্রতারণা করছেন অনেক ট্র্যাভেল ব্যবসায়ী। এই কথা স্বীকারও করলেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের কর্মকর্তা।  

সিলেট জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তির উপ-সহকারী পরিচালক মোঃ আতাউর রহমান বলেন, 'টিকেটিং যারা করে তারাও এই প্রতারণার সাথে সংযুক্ত আছে। তারাও এইধরনের অবৈধ কাজকে প্রশ্রয় দিচ্ছে বলেই সমাধানে সময় লাগছে।'

বর্তমানে ওমান ও কাতারে জনশক্তি রপ্তানি হচ্ছে। এসব দেশে শ্রমিক ভিসায় যেতে আগ্রহীদের সিলেটে ফিঙ্গার প্রিন্টসহ তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি প্রতারণা কমছে।

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ইনচার্জ এ কে আজাদ শিপার বলেন, 'ফিঙ্গার প্রিন্ট পদ্ধতির কারণে এখন প্রতারণা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমরা এখন সহজেই সঠিক মানুষকে বাছাই করতে পারি।'

সিলেট বিভাগে বৈধ ট্রাভেল এজেন্সি আছে দেড়শ’র মতো, যার মধ্যে ৭টি'র রিক্রুটিং লাইসেন্স রয়েছে। অথচ পাঁচ শতাধিক ট্রাভেল এজেন্সি অবৈধভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

জেআই