৩৪তম বিসিএসের ফলাফল নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সরকারি কর্মকমিশনের সামনে (পিএসসি) মানববন্ধন করেছেন। এ সময় তারা শূন্যপদে মেধাবীদের নিয়োগ এবং মেধা ও প্রাধিকার কোটা আলাদা করে ফল প্রকাশের দাবি জানান। পরে তাঁরা পিএসসির চেয়ারম্যানকে একটি স্মারকলিপিও দেন।

সকাল নয়টা থেকে মানববন্ধন শুরু হলে পুলিশ বাধা দেয়। তবে পরে তাঁরা পিএসসি থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে মানববন্ধন করেন। আন্দোলনকারীরা এ সময় পুলিশকে বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছেন। এরপর আর পুলিশ তাদের বাধা দেয়নি।

আন্দোলনকারীদের মধ্যে কয়েকজন বলেন, ২৯ আগস্ট বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ওই ফলাফলে দেখা যায়, মেধা ও কোটা আলাদা না করেই ফল প্রকাশ করা হয়েছে। আবার বিভিন্ন ক্যাডারে যোগ্য ও উত্তীর্ণ প্রার্থী থাকার পরও ৪০৪টি পদ শূন্য রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়েছেন চিকিৎসক ও প্রভাষক পদের প্রার্থীরা।

আন্দোলনকারীরা বলেন, ৩৪তম বিসিএসের বিজ্ঞাপনে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে পদ ছিল ২৭২টি। এর মধ্যে ৭৪টি শূন্য রাখা হয়েছে। এ ছাড়া প্রভাষক পদে বাংলার ৩৮টি, অর্থনীতির ২৭টি, ইংরেজির ২৫টি, ইসলামের ইতিহাসের ২৪টি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ১৯টি, পদার্থবিজ্ঞানের ১৪টি, হিসাববিজ্ঞানের ২৭টি, ব্যবস্থাপনার ২৩টি ও গণিতের ২২টিসহ বিভিন্ন ক্যাডারের ৪০৪টি পদ শূন্য রাখা হয়েছে।

আবার উল্টো চিত্রও আছে। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার চারটি পদের জায়গায় ২৭৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মৎস্যের ৩১টি পদের জায়গায় ৭৫ জনকে, গণপূর্তে ছয়টি পদের জায়গায় ৫৮ জনসহ মোট ৫৪৭ জনকে অতিরিক্ত নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের অভিযোগ, খামখেয়ালি করে এই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায়ে তাঁরা ইতিমধ্যে জাতীয় প্রেসক্লাব ও শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীকেও স্মারকলিপি দিয়েছেন। দাবি আদায় না হলে তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

কেএইচ