লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকৌশলী অজয় কুমার সরকার চাকুরী থেকে অবসর নিলেও চেয়ার ছাড়েনি।তিনি নিয়মিত উপজেলা প্রকৌশলীর চেয়ারে বসে অফিস করছেন। শুধু তাই নয়, উপজেলা প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ঠিকাদারীও করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। 

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকৌশলী অজয় কুমার সরকার গত ১৪ জুলাই চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তার স্থলে পাটগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী আবু তৈয়ব মোহাম্মদ শামসুজ্জামানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়।

কিন্তু গত মঙ্গলবার বিকালে হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকৌশলীর অফিসে গিয়ে দেখা যায়, চাকুরী থেকে অবসর নিলেও চেয়ার ছাড়েনি অজয় কুমার সরকার। তিনি ওই চেয়ারে বসে আগের মতই নিয়মিত অফিস করছেন। এছাড়া তিনি অফিসের চেয়ারে বসে প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ঠিকাদারী শুরু করেছেন। হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের ভবন গুলোর রংসহ সংস্কারের জন্য ১৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)।

কাগজ কলমে মানোয়ার হোসেন ও খেরশেদ আলম নামে দুই ঠিকাদার থাকলেও মুলত ঠিকাদারী করছেন অজয় কুমার সরকার। তার অসাবধানতার কারণে কয়েক দিন আগে ৪ তলা থেকে পড়ে ৩ জন শ্রমিক আহত হয়েছে। তবে মানোয়ার হোসেন ও খেরশেদ আলম নামে ওই দুই ঠিকাদারের দাবী, কাজ তারা নিজেরাই করছেন। প্রকৌশলী অজয় কুমার সরকার শুধু দেখভাল করছেন।

নাম না প্রকাশ শর্তে উপজেলা ভবন সংস্কারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, উপজেলা প্রকৌশলী অজয় কুমার সরকার কাজের নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ করেন তাদের। কয়েক দিন আগে তিনি রংপুর গিয়ে ভবনের জন্য টাইলস ক্রয় করে নিয়ে আসেন। সদ্য অবসরে যাওয়া হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকৌশলী অজয় কুমার সরকার বলেন, আমার অফিস ছিলো, আমি তো আসবই। তবে ঠিকাদারী করার বিষয়টি মিথ্যা বলে তিনি জানান।

পাটগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী আবু তৈয়ব মোহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন, আমি হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। তিনি আমার চেয়ারে বসে অফিস করছেন তা আমার জানা নেই। এটা নির্বাহী প্রকৌশলী ভালো বলতে পারবেন।

লালমনিরহাট এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম আমিরুজ্জামান বলেন, প্রকৌশলী অজয় সরকার তো অবসরে গিয়েছেন। তিনি অফিস করবেন কি কারণে ? তিনি অফিস করছেন ও পাশাপাশি ঠিকাদারীও করছেন তা আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরকার/জেড