দেশে সাম্প্রতিক গুম ও অপহরণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগ জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সম্প্রতি কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকের সভাপতিত্বে কমিশনের ফুল-বেঞ্চ সভায় গুম ও অপহরণের অভিযোগগুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

এসব ঘটনায় কমিশন উদ্বেগ প্রকাশ করে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি গুম ও অপহরণের ঘটনায় কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত অভিযোগ আমলে নিয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, অপহরণ ও গুমের শিকার হওয়া মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। যেহেতু জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তাই নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করার আহ্বান জানাচ্ছি।

চেয়ারম্যান আরো বলেন, কমিশন মনে করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক এ ধরনের অপরাধ ঘটে থাকলে তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা দেশের ভাবমূর্তি এতে ক্ষুন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া সামাজিক অস্থিরতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে এ ধরনের ঘৃণ্য ঘটনার সংখ্যাবৃদ্ধি পাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়।

এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এসব ঘটনা দ্রুত আমলে নিয়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বরাত দিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন জানায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত গুম ও অপহরণের সংখ্যা ৫২ জন। গত ছয়দিনে দুই ব্যবসায়ী ও এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয়ে অপহরণের কথা উল্লেখ করে এসব ঘটনার নিন্দাও জানায় সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, বেলারুশের অনারারি কনসাল ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ কুমার রায় নিখোঁজের ঘটনাকে কমিশন গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে।

এমবি