ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকা জেলায় মোট ২৩টি হাটের নির্ধারিত স্থানের বাইরে যদি কেউ হাট বসানোর চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহনগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।
অসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে রাজধানীতে পুলিশের নিরাপত্তা প্রদানের ব্যাপারে বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকা জেলায় মোট ২৩টি হাট বসবে। তার মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে ৭টি, ঢাকা দক্ষিন সিটিতে ১০টি এবং ঢাকা জেলাতে ৬টিসহ মোট ২৩টি হাট বসবে।
কমিশনার বলেন, এই নির্ধারিত হাটের বাইরে যদি কেউ হাট বসানোর চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আমারা প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিবো। হাটের বাইরে গরু বসানো ব্যক্তির উদ্দেশ্যে আমাদের প্রাথমিক অনুরোধ থাকবে নির্ধারিত হাটের মধ্যে যাওয়া।
তারপরও যদি তিনি না নিয়ে যায় তাহলে আমরা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। সেক্ষেত্রে আমরা গরুটির মালিকসহ গরুটিকে থানায় নিয়ে যাবো।
পশু চেকের ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রতিটা হাট কেন্দ্রিক আমাদের পশু ডাক্তার থাকবে এবং মোবাইল কোর্ট থাকবে। যে কোন ধরনের অপরাধ মূলক কর্মকান্ডকে তারা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা প্রদান করবে।
কমিশনার আরো বলেন, প্রতিটা হাট কেন্দ্রিক আমাদের সিসিটিভি, ওয়াচ টাওয়ার, পুলিশ কন্ট্রল রুম থাকবে। তাছাড়া যে কোন ধরনের আইন অমান্যের ঘটনায় পর্যাপ্ত ব্যাবস্থা থাকবে।
দুই মেয়রের সাথে আলোচনার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমার সাথে দুই সিটির মেয়রদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। এক হাট থেকে অন্য হাটে গরু নেওয়ার সময় যেন পথিমধ্যে থামিয়ে অন্য হাটে নেওয়ার জন্যে তাকে বাধ্য না করা হয় সে ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।
ইজারাদারদের সাথে সমন্বয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, ইজারাদারদের সাথে সমন্বয় করে প্রতিটি হাটে নির্ধারিত হাসিলের চার্ট ঝুলানো থাকবে যেন অতিরিক্ত হাসিল আদায় করতে না পারে।
হাটের জন্য নির্ধারিত স্থানে হাট বসানোর ব্যাপারে বরাবরই আপনারা ব্যার্থ। সে জন্যে এবার আপনাদের ভূমিকা কেমন থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আপনার কথার আংশিক সত্যতা আছে। আমরা এটি নিয়ন্ত্রন করতে অনেকটা ব্যার্থ। কারন বাস্তবতা অনেক বেশি। তাছাড়া ঈদে গরুর চাহিদা অনেক বেশি থাকায় আমরা সাকসেস হতে পারিনা।
এ জন্য পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ এবং আপনাদেরসহ (সাংবাদিকদের) সর্ব সাধারণের সাহয্য প্রয়োজন।
রাজধানীতে যত্রতত্র কোরবানি না করার জন্য ধর্মপ্রাণ মানুষের প্রতি তিনি বিশেষ অনুরোধ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি অতিরিক্ত কমিশনার ইব্রাহিম ফাতেমী, যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃঞ্চ পদ রায় ও মীর রেজাউল আলম (অপারেশন্স) এবং উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মুনতাসিরুল ইসলাম।
এমআর/এমকে





