নাটোরের নলডাঙ্গায় প্রায় কোটি টাকার টেন্ডার ভাগাভাগি নিয়ে যুবলীগের আভ্যন্তরীন কোন্দলের জেরে উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন সোহাগকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম এবং মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে অপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান লিটন সমর্থকরা।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নলডাঙ্গা উপজেলার বাসুদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে এই ঘটনা ঘটে। আহত যুবলীগ নেতা সোহাগকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবির দত্ত ও স্থানীয়রা জানান, নলডাঙ্গা পৌরসভার প্রায় কোটি টাকার টেন্ডার ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন সোহাগ ও অপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোহিদুর রহমান লিটনের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সোহরাব হোসেন সোহাগ ব্যবসায়িক কাজে মোটর সাইকেলে নাটোর আসার পথে বাসুদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গেলে সেখানে থাকা তোহিদুর রহমান লিটন ও তার সহযোগীরা সোহাগের উপর হামলা চালায়। এ সময় সোহাগকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে এবং তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার সময় এক রাউন্ড গুলির ঘটনা ঘটে বলেও এলাকাবাসী জানায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার শারিরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুড়ে যাওয়া মোটর সাইকেলটি উদ্ধার করে।
নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সোহাগের পায়ে একটি ক্ষতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিটের চিহ্ন রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান লিটন সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সাথে তার জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেছেন, সোহাগের সাথে অন্য কারো বিরোধ থেকে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
নাটোরের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার মুখার্জী টেন্ডার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের কথা স্বীকার করে বলেছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
জেআই





