বাংলাদেশে নির্মাণশিল্পের সাথে জড়িত শ্রমিকদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি- বলছে বেসরকারী সংস্থা সেফটি এন্ড রাইটস সোসাইটি।

বাংলাদেশে গত ৬ মাসে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় দু'শোরও শ্রমিক মারা গিয়েছে বলে একটি বেসরকারী সংস্থার জরিপে উঠে এসেছে।

সেফটি এন্ড রাইটস সোসাইটি নামের সংস্থাটি বলছে, নিহত শ্রমিকদের মধ্যে ৭৬ জনই নির্মাণশিল্পের শ্রমিক।

সংস্থাটির ২০১৪ সালের জরিপে দেখা গেছে বছরের প্রথম ছয় মাসে ১২৯টি কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় মোট ১৫৮ জন শ্রমিক নিহত হন।

গতবছরেও তাদের জরিপে সর্বোচ্চসংখ্যক নিহত শ্রমিক ছিল নির্মাণ খাতেই।

সেফটি এন্ড রাইটস সোসাইটি’র নির্বাহী পরিচালক সেকান্দার আলী মিনা বলছেন, “নির্মাণ সেক্টর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু নির্মাণ কাজে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি অবহেলার কারণেই এই শিল্পে হতাহতের সংখ্যা এতটা বেশি। তাছাড়া আইন মেনে করা হয়না বলে ঝুঁকিটা রয়ে যায়”।
নির্মাণখাতের কাজের সময় ভূমি থেকে অনেক উপরে উঠে কাজ করতে হয় শ্রমিকদের।

ভূমি থেকে উপরে উঠে যে কাজগুলো করতে হয় সেগুলোর সঠিক মাপ না নেয়ার কারণেও ঝুঁকিটা থাকে বলে জানাচ্ছিলেন সেকান্দার আলী মিনা।

তিনি আরও বলছেন, “বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড আছে যেখানে বলা হয়েছে কোন কাজটা কিভাবে করা হবে, কিন্তু আইনের প্রতি একধরনের অবহেলা থাকার কারণে হতাহতের ঘটনাগুলো ঘটে”।

সেকান্দার আলী বলছেন তারা গবেষণা করে দেখেছেন বিল্ডিংকোড ও সেফটি কোড নিয়ে মালিকপক্ষ খুব একটা আগ্রহী থাকেনা কারণ তারা মনে করে খরচ বেড়ে যাবে, আর অন্যদিকে শ্রমিকরাও নিরাপত্তা বিষয়ে অবগত নয়।

এ বিষয়ে সরকার থেকে সেফটি কোড পর্যবেক্ষণের জন্য একটি সংস্থা থাকার কথা, কিন্তু সেটি এখনও গঠন করা হয়নি বলে জানালেন সেফটি এন্ড রাইটস সোসাইটি’র নির্বাহী পরিচালক সেকান্দার আলী মিনা। সূত্র: বিবিসি

এআর