ভারতের পেট্রাপোল বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবীর মুখে ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে দেশের সর্ববৃহত্তম বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। ফলে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে প্রায় ৫ শতাধিক ট্রাক পণ্য নিয়ে আটকা পড়েছে।
শনিবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলের পর থেকে পূর্ব কোন ঘোষণা ছাড়ায় হঠাৎ করে এপথে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। তবে দিনভর এপথে ভারতের সাথে রফতানি বাণিজ্য স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, বিভিন্ন সমস্যার কারণে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের ব্যবসায়ীরা আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে দূর্ভোগ পোহাচ্ছিল। বিশেষ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ইন্টারনেট সংযোগ অবস্থা দূর্বল থাকায় সার্ভার অচলে প্রতিনিয়ত পণ্য খালাস কার্যক্রমে বাধা সৃস্টি হচ্ছিল। এছাড়া বন্দরের পার্কিংয়ে ট্রান্সপোর্ট কর্মচারীদের প্রবেশে বাঁধা সৃস্টি করা হচ্ছিল।
পাকিং চার্জ বাড়ানো হয় অযৌক্তিক হারে। এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ীরা কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে। এসময় তারা সমাধানের আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশের সাথে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়।
বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (ইনেসপেক্টর) তিতুমির আহম্মেদ জানান, ভারতের সাথে এপথে দিনভর রফতানি বাণিজ্য স্বাভাবিক চলেছে। আমদানি হচ্ছেনা দেখে বিকেলে তারা ভারতের পেট্রাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে।
এসময় তারা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করায় আপাতত বেনাপোল বন্দরে পণ্য পাঠানো সম্ভব হচ্ছেনা। সমাধান হলে পরে তারা বাংলাদেশ কাস্টমসকে জানাবেন বলেও জানান।
এদিকে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ থাকায় বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে প্রায় ৫ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক আটকে রয়েছে। এসব আটকে থাকা পণ্যের মধ্যে মেশিনারী দ্রব্য,গার্মেন্টস সামগ্রীর কাচামাল ও মাছ,পানসহ বিভিন্ন ধরনের পচনশীল পণ্য রয়েছে। দ্রুত সমাধানে না পৌছালে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, সপ্তাহে শুক্রবার ছাড়া অন্যান্য সব দিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতের সাথে দুপুর ১২ টায় রফতানি বাণিজ্য ও সকাল ৮ টা থেকে আমদানি বাণিজ্য শুরু হয়। বাণিজ্য শেষ হয় সন্ধ্যা ৭ টায়। প্রতিবছর এবন্দর থেকে সরকার প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে।
নাসির/এমএনজে





