ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে মেয়র হিসেবে জয়ী হয়েছেন মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। এ নির্বাচনে তিনি যেমন ভোট বেশি পেয়েছেন, তেমনি ব্যয়ও সবচেয়ে বেশি করেছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রার্থিদের দাখিল করা ব্যয়ের হিসাব থেকে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ব্যয় দেখিয়েছেন ২৮ লাখ টাকা।

অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মির্জা আব্বাস ব্যয়ের দিক থেকেও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। যদিও ডিএসসিসি নির্বাচনের ২০ প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র তিনিই হচ্ছেন বিএনপি সমর্থীত প্রার্থী। মেয়র নির্বাচনে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা।

সাঈদ খোকন ৫ লাখ ৩৫ হাজার ২৯৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। যা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বির চেয়ে ২ লাখ ৪১ হাজার ৫ বেশি। অর্থাৎ মির্জা আব্বাস এ নির্বাচনে পেয়েছিলেন ২ লাখ ৯৪ হাজার ২৯১ ভোট।

ডিএসসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ জানান, মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বি ২০ প্রার্থী তাদের ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে ১২ প্রার্থীর ব্যয় ১ লাখ টাকার নীচে। এর মধ্যে একজন কোনো ব্যয় করেননি বলে রিটার্ন দাখিল করেছেন। অন্যদের মধ্যে  দু’জন এক লাখের বেশি, ২জন চার লাখের বেশি, একজন পাঁচ লাখের বেশি, একজন নয় লাখের বেশি, একজন প্রায় ২০ লাখ ও অন্যজন প্রায় ২৯ লাখ টাকা ব্যয় দেখিয়েছেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আবু নাছের মুহাম্মদ মাসুদ হোসাইন (চরকা প্রতীক) ৭৮ হাজার ৬১৬ টাকা, এ এস এম আকরাম (ক্রিকেট ব্যাট) ৩৪ হাজার ১০০ টাকা, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আয়ুব হুসেন (ঈগল) ১৬ হাজার ৫০০ টাকা, এসএম আসাদুজ্জামান রিপন (কমলালেবু) ৭৮ হাজার ৫০০ টাকা, দিলীপ ভদ্র (হাতি) ২৮ হাজার ৫০০ টাকা, বজলুর রশীদ ফিরোজ (টেবিল), ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬০ টাকা, মশিউর রহমান (চিতা বাঘ) ১৯ হাজার ৫৯৫ টাকা, মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ (মগ) ১৯ লাখ ১৩ হাজার ১৭০ টাকা, মোহাম্মদ শফি উল্লাহ চৌধুরী (ময়ূর) ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা, মোহাম্মদ সাঈদ খোকন (ইলিশ মাছ) ২৮ লাখ ৩৫ হাজার ১১২ টাকা ব্যয় দেখিয়েছেন।

এছাড়া মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন (সোফা) ৯ লাখ ৭ হাজার, আকতারুজ্জামান ওরফে আয়তুল্লাহ (লাউ) ২৩ হাজার ৭৮০ টাকা, আব্দুর রহমান (ফ্লাক্স) ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৩শ টাকা, আব্দুল খালেক (কেক) ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৪০ টাকা, গোলাম মাওলা রনি (আংটি) ৪ লাখ ৪০ হাজার ৮১০ টাকা, জাহিদুর রহমান (ল্যাপটপ) শূন্য টাকা, বাহারানে সুলতান বাহার (শার্ট) ৫০ হাজার টাকা, রেজাউল করিম চৌধুরী (টেবিল ঘড়ি) ৫ লাখ ৩৬ হাজার, শহীদুল ইসলাম (বাস) ৩৯ হাজার ৫শ টাকা ও শাহীন খান (জাহাজ) ৪০ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন আইন অনুযায়ী, ভোটার বিশ লাখ হলে মেয়র প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ত্রিশ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারেন। এছাড়া ব্যক্তিগত খাতে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা ব্যয় করতে পারেন।

গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ডিএসসিসি নির্বাচনে ২০ মেয়র, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৯৭ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৯১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এএইচ