৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা সড়কটি ২ লেন হতে ৪ লেনে উন্নতকরণ কাজের ৩টি প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন করেছে সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী উবায়দুল কাদের।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাজধানীর প্যানপ্যাসিপিক সোনারগাঁও এর ওয়েসিস এ আয়োজিত এক চুক্তি সম্পাদন অনুষ্ঠানে সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ সব চুক্তি সম্পাদন করেন।
চুক্তপত্রে সওজ’র পক্ষে প্রধান প্রকৗশলী মো.ফিরোজ ইকবাল, প্যাকেজ ১-এর পক্ষে (kyerong- spectra joint venture)কাইরং এস্পেকট্রা জয়েন্ট ভেনচার এর কোম্পানি প্রতিনিধি (yong wan young) ইয়ং ওয়ান ইয়ং, প্যাকেজ ২-এর পক্ষে (AML-HCM joint venture)এএমএল-এইচসিএম জয়েন্ট ভেনচার কোম্পানি প্রতিনিধি (Abid Habib) আবিদ হাবিব প্যাকেজ ৩-এর পক্ষে (SAMWHAN-MIR AKHTER joint verture)সামওয়ান-মির আকতার জয়েন্ট ভেনচার কোম্পানি প্রতিনিধি (Sung joon kim)সাং জুন কিম স্বাক্ষর করেন।
মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের উত্তবাঞ্চলের সাথে অভ্যান্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশ সমূহের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ উন্নতকরণের লক্ষ্য সংযোগ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।
পর্যায়ক্রমে সিলেট, খুলনা, বেনাপোল, চট্টগাম, কোয়াকাটাসহ অন্যান্য অঞ্চলে ও চার লেনের কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য এ সড়কটি দেশের উত্তরাঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকার একমাত্র সরাসরি সড়ক যোগাযোগ করিডোর হিসেবে ৪ ও ৯ এবং এশিয়ান হাইওয়ে ২ ও এশিয়ান হাইওয়ে ৪১ এর অংশ।
প্রকল্পটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ওপেক ফান্ড এবং আবুধাবির ঋণ সহায়তায় বাস্তবায়িত হবে, যার প্রাক্কলিত ব্যয় ৩০৬৬.৮০ কোটি টাকা।তার মধ্যে ১৯৮ মিলিয়ন ইউএস ডলার আবুধাবি ফান্ড থেকে পাওয়া যাবে।
মন্ত্রী জানান, প্রকল্পসমূহের মধ্যে থাকছে-বিদ্যামান ৭০ কিলোমিটার জাতীয় মহা-সড়ককে ২ লেন হতে ৪ লেন এ উন্নিত করা; সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়ন এবং নির্বিঘ্নে যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষে বিদ্যমান সড়ক বাকগুলো সরলিকরণ, সড়ক বিভাজন নির্মাণ এবং ধীরগতি সম্পন্ন যানবাহনের জন্য আলাদা লেন নির্মাণ; ইন্টারসেকশন এবং রেলওয়ে ক্রসিং এ যানজট দূরিকরণের জন্য ৫টি ফ্লাইওভার নির্মাণ; বিদ্যমান ৭০ কিলোমিটার জাতীয় মহা-সড়কে ২৬টি সেতু এবং ৬০ টি কালভার্ট নির্মাণ; ঢাকা’র তেজগাওয়ে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের প্রধান কা্র্যালয় নির্মাণ।
প্রকল্পের আওতায় চারটি রোডকন্ট্রাক্ট প্যাকেজ হচ্ছে- ভোগরা বাজার হতে কারিয়াকৈর সড়ক উন্নয়ন; কালিয়াকৈর বাইপাস হতে তেদুল্লামারি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন; দুল্লামারি হতে টাংগাইল পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন; টাংগাইল হতে এলেঙ্গা পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নের কাজ।
মন্ত্রী জানান, সাবেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প এর অধীনে জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাংগাইল-এলেঙ্গা সড়কটি নির্মাণ কাজ ৩৬ মাসের মধ্যে শেষ হবে। কাজ শেষ হলে সড়কটি বাঙলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান এর মধ্যে আন্তঃদেশীয় সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নসহ ব্যবসায়-বানিজ্যে, অর্থনীতি, শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রসার এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে যেমন ভূমিকা রাখবে, তেমনি রাজধানী ঢাকার সাথে দেশের উত্তরাঞ্চলের যোগযোগ ব্যবস্থা দ্রুত, নিরাপদ ও সহজতর করবে।
তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ নিতে ভালবাসেন, অসম্ভবকে ভালবাসেন। শান্ত সাগরে দক্ষ নাবিক তৈরি হয়না। উত্তাল সাগরেই দক্ষ নাবিক তৈরি হয়। আমরা সেই উত্তাল সাগরেই অভিজ্ঞ হতে চাই। অসম্ভবকে সাহসের সাথে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।
দূর্নীতির বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, শুধুমাত্র মন্ত্রী সচ্চ হলেই সেটা দূনীতি মুক্ত হয়না। সে বিভাগের প্রত্যেককে দূনীতি মুক্ত থাকতে হবে।আমি একা সেষ্টা করলে হবে না, সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, আগে যেকোন টেন্ডার ইত্যাদি নিয়ে কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে থাকত সেটা এখন আর নেই, কোন কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে থাকতে পারবে না। কন্ট্রাকটারের কাজ সে তার সিস্টেম অনুযায়ি করবে, কোন সমস্যা থাকলে সে প্রধান ইঞ্জিনিয়ারের সাথে যোগাযোগ করবে, সে না পারলে সচিবের সাথে, সব শেষে আমার সাথে যোগাযোগ করতে কোন বাধা নেই, তার পরও কাজ হতেই হবে।
প্রধানমন্ত্রী ১১ জনের একটি টিমওয়ার্ক গড়তে পারলে বাংলাদেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরো অনেক এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি।
সৈয়দ মহসিন আলীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি কাল ছিলেন আজ নেই, কিন্তু তার কর্ম তাকে বাচিয়ে রাখবে। আমরা কর্ম করে মানুষের মাঝে বেচেঁ থাকতে চাই।
চুক্তি সম্পাদন অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, সড়ক ওযোগাযোগ মন্ত্রণারয়ের সচিব এমএএন সিদ্দিক,সওজ এর প্রধান প্রকৗশলী ফিরোজ ইকবাল প্রমূখ।
এমএ





