মণিরামপুরে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ক্রমে অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। বেড়েই চলেছে পানি। হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ৫৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
গত পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে হরিহর, মুক্তেশ্বরী ও টেকা নদীর ঢলে উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের প্রায় পঞ্চাশটি গ্রামের পাঁচ হাজার পবিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কাঁচা ঘর ভেঙে গৃহহারা হয়েছেন ১১০টি পরিবার। কোনো কোনো বাড়ির আঙিনায় এখন কোমর সমান পানি। আবার কারো কারো ঘরে জমেছে হাঁটু পরিমান পানি।
পানি উঠে যান চলাচলের বিঘ্ন ঘটছে যশোর-চুকনগর মহাসড়কে। জলাবদ্ধ এলাকার নলকূপগুলোতে পানি ঢুকে নিরাপদ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দেখা দিচ্ছে খাদ্য সংকট। টয়লেটগুলো হয়ে পড়েছে ব্যবহারের অনুপযোগী। ফলে বাড়িঘর ছেড়ে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছেন মানুষ। কেউবা আশ্রয় নিচ্ছেন রাস্তার পাশে টংঘরে।
শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় ৫৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এদিকে পাঁচ দিনের টানা বর্ষণে এক হাজার ২৬৫ হেক্টর কৃষিজমি তলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটিতে। মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) লিংকন বিশ্বাস, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুশান্ত তরফদার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইয়ারুল হক মঙ্গলবারও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্র বলছে, হরিহর নদীর ঢলে পানি মানুষের বসবাসের বাড়িতে ঢুকে পড়েছে। এই পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার বাড়ি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে শ্যামকুড় ইউনিয়নের চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ২৫০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।
তবে ভিন্ন কথা বলছেন শ্যামকুড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি। তিনি বলেন, ‘ইউনিয়নের ১৩টি গ্রামের প্রায় তিন হাজার পরিবার এখন পানিবন্দি। বাড়িঘরে টিকতে না পেরে প্রায় ৫০০ পরিবার রাস্তার দুই ধারে এবং নাগোরঘোপ হাইস্কুল, নাগোরঘোপ প্রাইমারি স্কুল, আমিনপুর ও চিনাটোলা প্রাইমারি স্কুলে উঠেছে।’ দ্রুত এদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণসহ ও অস্থায়ী টয়লেট স্থাপনের দাবি করেছেন চেয়ারম্যান।
রাস্তার ধারে অস্থায়ীভাবে নির্মিত টংঘরে উঠেছেন চিনাটোলা গ্রামের আবদুল আজিজ (৬০)। তিনি বলেন, ‘ঘরে হাঁটুপানি। টিকতি না পাইরে রাস্তায় আইছি। এখানেও পানি।’
টংঘরের বাসিন্দা ওই গ্রামের মতিয়ার (৫০) বলেন, ‘কাজ করে খাই। কয়েকদিন ধরে কাজ নেই, ঘরে খাবারও নেই।’ একই কথা বললেন ওই গ্রামের গৃহবধূ ফাতেমা খাতুন ও মোশাররফ হোসেনের। আবার আশ্রয় নেওয়াদের কেউ কেউ পলিথিন চাইছেন বৃষ্টির হাত থেকে রেহাই পেতে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইয়ারুল হক বলেন, ‘সারা দিন জলাবদ্ধ কয়েকটি এলাকা ঘুরেছি। আশ্রয় কেন্দ্রে কিছু অস্থায়ী টয়লেটের প্রয়োজন আছে। আজ-কালের মধ্যে তা স্থাপনের চেষ্টা করছি। তাছাড়া জলাবদ্ধদের নাম তালিকা জেলা অফিসে পাঠিয়েছি।’
তারেক/জেড





