জেলার কুতুবদিয়া দ্বীপের লক্ষাধিক মানুষ চরম উৎকণ্ঠায় দিন যাপন করছেন। দ্বীপের চারদিকে প্রায় ১০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কার না করায় এ উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কার না হলে ফসলি জমি, লবণ মাঠ ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন দ্বীপের বাসিন্দারা।

উত্তর ধুরুং ইউনিয়নে আকবর বলীপাড়া, চরধুরুং, চুল্লারপাড়া, মিয়াজিরপাড়া, ফয়জানিরপাড়া, ধুরুং জেটিঘাট, লেমশীখালী ইউনিয়নে, পেয়ারা কাটা, দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নে বাতিঘরপাড়া, মদিন্যারপাড়া, কৈয়ারবিল ইউনিয়নে মলমচর, বড়ঘোপ ইউনিয়নের দক্ষিণ অমজাখালী, আজম কলোনি, মুরালিয়া, আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নে পূর্ব তাবালের চর, দক্ষিণ তাবালের চরসহ অন্তত ১০ কিলোমিটার কাঁচা বেড়িবাঁধ এখনও ক্ষতিগ্রস্ত রয়েছে।

এ সব ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে স্বাভাবিক জোয়ারের পানি সহজেই দ্বীপে প্রবেশ করছে।

চর ধুরুং গ্রামের বাসিন্দা আনিছ ও কৃষক আমান উল্লাহ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামত না হওয়ায় গত বছর সাগরের লোনাপানি প্রবেশ করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জরুরি কাজের কিছুটা হলেও বাকি অংশ রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকির মাঝে। ফলে এ বছরও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

আলী আকবর ডেইল তাবালের চরের চাষী আমানত সুমন বলেন, ‘ভঙ্গুর বেড়িবাঁধ বর্ষা শুরুর আগে মেরামতের কথা ছিল। কিন্তু করেনি। ফলে গত বছরের ন্যায় ভরা জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে।’

উত্তর ধুরুং ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দৌলাহ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ এখন মেরামত না হলে আবারও ফসল, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি বিলীনের শংকায় দিন কাটছে তার ইউনিয়নবাসীর। বার বার বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানালেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ তা কানে নিচ্ছেন না।’

কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আওরঙ্গজেব মাতবর বলেন, ‘কয়েক কিলোমিটার কাঁচা বেড়িবাঁধ এখনও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। জরুরি কাজের যে সব স্থানে বস্তা ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো আপাতত ঠিক থাকলেও মাটির কাজ আবার সাগরে চলে যাবে বৃষ্টি হলে। বাকিটা তাড়াতাড়ি নির্মাণ না হলে ফের সীমাহীন দুর্ভোগে পড়বে দ্বীপের মানুষ।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুতুবদিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত (এসও) শাখা কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ কয়েক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মেরামতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দুই মাস আগে সার্ভে করে গেছেন। সার্ভেতে ১৭টি পয়েন্টে জরুরি মেরামতের জন্য তালিকা করা হয়েছে। বাজেট হলে দ্রুত মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি চলমান জরুরি কাজের প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অপরদিকে উপজেলায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে ৫৪ কোটি টাকার প্রকল্পটি একনেক বৈঠকে পাস হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।’

জেআই