রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ঊনিশ’ ছেষট্রির ৬-দফাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অন্যতম মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ঐতিহাসিক ৬-দফা আন্দোলন শুধু বাঙালি জাতির মুক্তিসনদ নয়, সারাবিশ্বের নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের মুক্তি আন্দোলনেও তা সবসময় অনুপ্রেরণা যোগাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা ৬-দফা আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সম্মিলিতভাবে দেশ গড়ার কাজে নিজেদেরকে নিয়োজিত করি।’
ঐতিহাসিক ৬-দফা দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত আজ এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, পূর্ব বাংলার জনগণের মুক্তি, স্বাধীনতা ও স্বায়ত্ত্বশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ৬-দফা ঘোষণা করেন।
আবদুল হামিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিসাসে ৬-দফা একটি অন্যতম মাইলফলক। তাই ঐতিহাসিক এ দিনে আমি স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।’
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস আন্দোলন, আর ত্যাগের ইতিহাস। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন বাঙালির মুক্তি আন্দোলন-সংগ্রামকে ক্রমান্বয়ে তীব্র থেকে তীব্রতর করে। তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও বৈষম্যনীতির বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালে লাহোরে সর্বদলীয় সম্মেলনে ঐতিহাসিক ৬-দফা প্রস্তাব পেশ করেন।
এই ৬-দফার মধ্যেই বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্বার্থকে ঊর্ধ্ব তুলে ধরেন উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার অপরিহার্যতা বিধৃত ছিল এ দাবিসমূহের মধ্যে। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবির্ভূত হলেন বাঙালি জাতীয়তাবাদের মহান নেতা হিসেবে।
আবদুল হামিদ বলেন, ৬-দফা ঘোষণার পর তৎকালিন শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে বারবার গ্রেফতার করে এবং তাঁর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। কিন্তু এসব সত্ত্বেও তিনি (বঙ্গবন্ধু) ৬-দফা দাবি থেকে সরে আসেননি, তাঁর নেতৃত্বে দাবি আদায়ের আন্দোলন বেগবান হয় এবং তা অল্প সময়ের মধ্যে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। শাসকগোষ্ঠী ৬-দফার আন্দোলন স্তিমিত করতে গ্রেফতার নির্যাতনসহ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৬৬ সালের ৭ জুন হরতাল চলাকালে পুলিশ ও ইপিআর নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালায়। এতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মনু মিয়া, মুজিবুল হকসহ অনেকে শহীদ হন।
তিনি বলেন, ‘আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আমি ৬-দফার দাবি আদায়সহ জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নিহত সকল শহিদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’
আবদুল হামিদ বলেন, আমাদের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা অর্জনে জাতির পিতার অবদান অপরিসীম। মূলত বাংলা, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু একই সূত্রে গাঁথা। বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন। তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণে তথা সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে রাষ্ট্রপতি সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
ইআর/এআই





