গত কয়েকদিনের টানা মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে নগরীর দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা ডুবে গেছে। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন স্থানে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে৷
এছাড়া টানা বর্ষণে হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালীসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে হাজার হাজার একর জমির মৌসুমী ফসলের ক্ষেত।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল নয়টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা পর্যন্ত ১৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমী বায়ু প্রবল থাকার কারণে মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকবে। দেশের সকল সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা এবং সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণ হতে পারে।
সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে মুরাদপুর, ষোলশহর, বাকলিয়া, খাজারোড, হামজারবাগ, মোহাম্মদপুর, শুলকবহর, হালিশহর, আগ্রাবাদ কে ব্লক, আগ্রাবাদ বেপারি পাড়া, এক্সসেস রোড, বড় পুল, ছোট পুল, প্রবর্তক, কাপাসগোলা, চকবাজারসহ নগরীর নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার সড়ক ছাপিয়ে বৃষ্টির পানি দোকানপাট-ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানেও ঢুকে পড়েছে। পথচারীদের অনেকেই পানি ডিঙিয়ে গন্তব্যে ছুটছেন৷
জলাবদ্ধতার কারণে সড়কগুলোতে দেখা দিয়েছে যানজট। এছাড়া পরিবহন সংকটে দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা। বাস, রিকশা ও অটো রিকশায় আদায় করা হচ্ছে দু-তিন গুণ বেশি ভাড়া।
আগ্রাবাদ বেপারি পাড়া এলাকার বাসিন্দা মনসুর আহমেদ বলেন,‘টানা বৃষ্টিপাতে পানিবন্দী হয়ে গেলে এলাকার হাজারো মানুষ। ড্রেনেজ ব্যবস্থার শোচনীয় অবস্থা ও নগরীর খালগুলো খনন না করার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ’
এদিকে ভারী বর্ষণের কারণে হাটহাজারী উপজেলার আলমপুর, মির্জাপুর, গুমানমর্দ্দন, মেখল, ধলই, ফরহাদাবাদ, ফটিকছড়ি উপজেলার ধুরুং, সুয়াবিল, ভূজপুর, বিবিরহাট, কাঞ্চননগর, সাতকানিয়ার ছদাহা, কেউচিয়া, জনার কেউচিয়া, আমিলাইশ, নলুয়া, চরতি, চন্দনাইশের ধোপাছড়ি, দোহাজারী, সাতবাড়িয়া, বৈলতলী, বরমা, বরকল ও জোয়ারাসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় বসত ঘরে পানি প্রবেশ করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
এছাড়া বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল, নাপোড়া, পুঁইছড়ি, সাধনপুর, পৌরসদর জলদী, কালীপুর, বৈলছড়ি ও পুকুরিয়া, গন্ডামারার আবাইত্যা ঘোনা চিংড়ি প্রজেক্টসহ বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। টানা বর্ষণের ফলে ফসলি জমিগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আগামী কয়েকদিন বর্ষণ অব্যাহত থাকলে কোন ক্ষেতই অক্ষত থাকবেনা বলে জানিয়েছে কৃষকরা।
মৌসুমী ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে সবজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা।
টানা বর্ষণের কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি কর্ণফুলী, হালদা নদী, শংখনদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে নদীপাড়ে বসবাস করা মানুষের মাঝেও আতংক বিরাজ করছে।
জেআই





