বর্ষায় কোমড় সমান পানি ও শীতে লবন পানিতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সাগর মোহনার চর কুকরি-মুকরি ইউনিয়নবাসী।

এই সমস্যা সমাধানের আশায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জলবায়ু ট্রাষ্ট ফান্ডের সাড়ে ১১ কোটি টাকা ব্যয় করে ইউনিয়নের চারপাশে প্রায় সাড়ে ১৪ কিলোমিটার রিঙবাঁধ নির্মাণ করেছে।

বাঁধের মধ্যে থাকা খালের মুখে ছোট-বড় নয়টি জলকপাটের অভাবে হচ্ছে না আশা পূরণ। ফলে ইউনিয়নের ১০ হাজার মানুষের দুর্দশা থেকেই যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুকরি-মুকরি ইউনিয়নে জনবসতিপূর্ণ এলাকার চারপাশে সাড়ে ১৪কিলোমিটার রিঙবাঁধ নির্মাণ হয়েছে। সড়কবিহীণ ইউনিয়নের বাঁধটিই হয়েছে ইউনিয়নের মানুষের প্রধান সড়ক। মানুষ-জন তাদের গন্তব্যে যেতে বাঁধটি ব্যবহার করছে । শিশুরা হাসি মুখে উদোম পায়ে স্কুলে যাচ্ছে-আসছে। কিন্তু কিছু দূর যেতে না যেতে খালের মূখে পড়ে পানিতে নামতে হচ্ছে। লবন পানি ওঠায় কোনো ফসল নেই খেতগুলোতে। লবনের তীব্রতায় মানুষের উঠোনেও নেই সবজির গাছ।

ইউনিয়নের আমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির রাবেয়া, জোনাকি, দ্বিতীয় শ্রেণির আসমা, মৌসুমী, প্রথম শ্রেণির আঁখি, রুমকি, রেনু বাঁধের উপর দিয়ে হেঁটে আসছিল। ওদের কাছে জানতে চাইলে বললো, শীতে শুকনায় আর বর্ষায় হাঁটু পানিতে ভিজে স্কুলে যেতে হয়।

ইউনিয়নের রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাদশা মিয়া ও আমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, সৃষ্টির শুরু থেকে ২০১৩ সাল অবধি চরটি বর্ষার ছয় মাস সম্পুর্ণ এবং শুকনো মৌসুমে নিচু জমি জোয়ারে ডুবে যেতো। বর্ষায় একটু জোয়ার এলে ঘর, বাড়ি, মাছের পুকুর ও ফসলি খেত প্লাবিত হতো। আবার ভাটায় নেমে যেতো। বাঁধ দেওয়ার পরে খালের মুখে জলকপাট না দেওয়ার কারণে জোয়ারে লবন পানি উঠলেও নামতে সমস্যা হচ্ছে। ফলে ভোগান্তি আরও কয়েকগুণ বেড়েছে।

ইউনিয়নের বাবুগঞ্জের বাসিন্দা বিবি রহিমা বলেন, চরে চার মাস মিষ্টিপানি আর আট মাস লবন পানি। লবন পানির কারণে রান্না-বান্না, খাওয়া, কাপড় চোপড় ধোওয়ায় সমস্যা হচ্ছে।
এই গ্রামের আব্দুল লতিফ খাঁ, সলেমান ফরাজী, সফিকুল ইসলাম মাঝি, হাসেম খাঁসহ একাধিক জেলে ও কৃষক বলেন, কুকরি-মুকরি ইউনিয়নে লবন পানির কারনে রবি মৌসুমে কোনো ফসল ফলানো সম্ভব না। এ সময় জেলেরা নদীতে মাছ ধরে কোনো রকম সংসার চালায়। কিন্তু এ বছর নদীতে মাছ না থাকায় কুকরিবাসির মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে। জলকপাট দিলে তারা খেতে ১২ মাস আবাদ করতে পারতো।

ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাশেম মহাজন বলেন, সাগর মোহনার এই ইউনিয়নটি পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত। পর্যটকটের ও কুকরি-মুকরিবাসির চলাচলসহ যাবতীয় নিরাপত্তার জন্য বাঁধ ও জলকপাট দরকার। পাউবো বাঁধ নির্মাণ করলেও জলকপাট দেয়নি। ফলে বাঁধটির উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

পাউবো-২ নির্বাহী প্রকৌশলী কওসার আলম বলেন, পানি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কুকরি-মুকরি রিংবাঁধের মধ্যে ছোট-বড় নয়টি খালের মুখে জলকপাট দরকার। যার প্রস্তাব মন্ত্রনালয়ে প্রকল্প আকারে পাঠানো হয়েছে। পাশ হয়ে এলে বাস্তবায়ন হবে।

ইআর