পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, যারা পুলিশে এসে দুর্নীতি করতে চান তারা চাকরি ছেড়ে দেন। দুর্নীতির জন্য পুলিশ বাহিনী না। এর চেয়ে স্পষ্ট উচ্চারণ আর কী হতে পারে।
আইজিপি বলেছেন, অন্য কে, কোথায়, কী করলো−বাংলাদেশের মানুষ সেগুলো বদার করে না। কিন্তু পুলিশ বাহিনীর কেউ দুর্নীতি করবে−এটা বাংলাদেশের মানুষ প্রত্যাশা করে না।
আজ মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
যারা ভবিষ্যতে পুলিশে আসবেন বলে ভাবছেন, তাদের বলবো, আপনার মনে যদি কোনও খারাপ উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে আমাদের এখানে আসবেন না, অন্য জায়গায় যান।’
বাংলাদেশ পুলিশে সর্বাধুনিক অপারেশনাল গিয়ার ‘টেকটিক্যাল বেল্ট’ সংযোজনের উদ্বোধন করেন আইজিপি।
পুলিশের সর্বোচ্চ এই কর্মকর্তা বলেন, ‘দুর্নীতি ও দুর্ব্যবহার নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। পুলিশে দুর্নীতি ও দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমরা জয়ী হবো।’
থানায় বসে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা হয়−এমন শিরোনামে বেশ কিছু সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, তাহলে কি থানা নিরাপদ নয়?
সাংবাদিকদের করা এমন এক প্রশ্নের জবাবে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘থানা কোনও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা কেন্দ্র হতে পারে না। হবে না। এটাই আমরা বলতে পারি। থানা হচ্ছে মানুষের শান্তি ও জীবন রক্ষা করার জায়গা, এর জন্য কাজ করবে থানা। যদিও থানা নিয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তবে আমরা সেগুলো নিয়ে কাজ করছি।’ পুলিশে টেকটিক্যাল বেল্ট সংযোজনের উদ্বোধন অনুষ্ঠান
অন্য আরেকটি প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘সম্প্রতি ভাস্কর্য ইস্যুতে কোনও মহল যদি জল ঘোলা করার চেষ্টা করে, আমরা সেটা করতে দেবো না। আমরা জল পরিষ্কার করে দেবো।’
এর আগে সর্বাধুনিক অপারেশনাল গিয়ার ‘টেকটিক্যাল বেল্ট’ উদ্বোধন করেন আইজিপি। ট্যাকটিক্যাল বেল্টের মূল স্লোগান হলো ‘হ্যান্ডস ফ্রি পুলিশিং’ মানে হাত খালি রাখা। এতে পুলিশের কাজে গতি আসবে, মনোবলও বাড়বে। একই সঙ্গে পুলিশকে দেখতেও আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী লাগবে।
এ বিষয়ে আইজিপি বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘উন্নত বিশ্বে রুটিন ডিউটিতে পুলিশ ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে না। এখন থেকে আমরাও সেই বিষয়টি প্রচলন করতে চাই। প্রথমে ঢাকা ও চট্টগ্রামে এটি ব্যবহার করবো। এরপর ধাপে ধাপে সবক্ষেত্রে এটির প্রচলন করা হবে। আশা করছি আগামী এক মাসের মধ্যে ডিএমপি ও সিএমপি তাদের সদস্যদের নতুন ধারার সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে। এর ফলে পুলিশ সদস্যরা কোনও ধরনের অস্বস্তি ছাড়াই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না ঢাকার রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ এক হাতে ওয়্যারলেস ধরে থাকুক, এক হাত অকুপাইড হয়ে থাকুক। নতুন গিয়ার সংযোজনের ফলে ওয়্যারলেস চলে যাবে বেল্টে। কাঁধে সংযোজিত মাইক্রোফোনের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যরা ওয়্যারলেস ব্যবহার করতে পারবেন।
নতুন এই অপারেশন গিয়ার চালু করায় পুলিশ সদস্যদের আগের মতো কাঁধে বা হাতে করে অস্ত্র বহন করতে হবে না। হাত ফাঁকা থাকায় জনগণের যেকোনও প্রয়োজনে দুই হাত ব্যবহার করেই সহযোগিতার জন্য এগিয়ে যেতে পারবেন পুলিশ সদস্যরা।
এএস





