সকাল পৌনে ৯টার দিকে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি থানার বজরা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় ভোটার শূন্য। বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীর কোন এজেন্ট ছিল না। বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্ট বের করে দিয়ে আ’লীগের কর্মীরা নৌকায় সিল মারছে।

এই কেন্দ্রে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত ৩ হাজার ২শ ভোটের মধ্যে প্রায় অর্ধেকের বেশী ভোট গ্রহণ সম্পূর্ণ হয়েছে ।

এ কেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থী আপেল মার্কা আলী আকবর অভিযোগ করে বলেন তার ভোট তিনি দিতে পারেননি। এক ঘণ্টার ভেতর আ’লীগ কর্মীরা নৌকায় সিল দিয়ে সকল ব্যালট শেষ করে দেয়।

এ কেন্দ্রে আসা রুহুল আমিন. হুমায়ুন, মানিক, বাবুলসহ শতাধিক মানুষ অভিযোগ করেন তারা ভোট দিতে পারেননি। এমনকি আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মিরনের বড় ভাই ভোট দিতে এসে দেখেন তার ভোট দিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে তাকে অন্য জনের ব্যালট নিয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে।

কেন্দ্রে হামলা, ব্যালট পেপার, সিল ছিনতাই, অবৈধ ব্যালট ও কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১৬টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসারগণ।

এ সময় পুলিশ বাধা দিলে পুলিশকে লক্ষ করে কয়েকটি হাত বোমা নিক্ষেপ করে। এতে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকতা বাবুল চন্দ্র আচার্য ও পোলিং কর্মকর্তা মেহেদি হাসানসহ অন্তত ১০জন আহত হয়।

অপরদিকে নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এতে নদনা ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী (ধানের শীষ) দিদার হোসেন ও নাটেশ্বর ইউনিয়নের আবু সাইদ জাপানী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

কেন্দ্রে দখল ও সরকার দলীয় একতরফা প্রহসনমূলক নির্বাচনের অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’এর চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৮টা থেকে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটগ্রহণের পর থেকে কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটার উপস্থিতি বাড়লেও বিভিন্ন কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে একজন সহকারী প্রিজাইডিং’সহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।

জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মো . মনির হোসেন জানান, কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে ১৬ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে স্ব-স্ব প্রিজাইডিং অফিসারগণ।

তিনি বলেন, আমাদের প্রর্যাপ্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স ছিল। যেখানেই আমরা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র মনে করেছি সেখানেই নিরাপত্তা ব্যাবস্থা জোরদার করা হয়। কয়েকটি কেন্দ্র স্থগিত হওয়া ছাড়া সার্বিক নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য ১০ ইউনিয়নের মধ্যে বারোগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। বাকী আরো ৯টিতে ৪২ জন চেয়ারম্যানের পাশাপাশি সাধারণ ৩৪৮ ও সংরক্ষিত পদে ৭০ জন মাঠে রয়েছেন।

সোনাইমুড়ী উপজেলা মোট ভোটার সংখ্যা হলো ২ লাখ ১ হাজার ৪৪৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১২ হাজার ১৭১ এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ হাজার ২৭৮ জন।

এমআইএস