১৯৯২ সাল।শুকুর এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করেছে মাত্র । তার নিকটতম এক আত্মীয় বিদেশ থেকে এসেছে।অনেকের মত সেও দেখা করতে যায় আত্মীয়ের সাথে। বিভিন্ন ধরণের গিফ্ট প্রদান করে সবাইকে। শুকুরকে দেয় একটি বিদেশি টাকার নোট।এতেই সে আনন্দে আত্মহারা। বিদেশি টাকার এ নোটটি তার ভালো লেগে যায়।এর পর থেকেই বিদেশি টাকার প্রতি তার লোভ জাগে। সংগ্রহ শুরু করে বিদেশি টাকার নোট।প্রতিনিয়ত সে খোঁজ রাখে কে কখন বিদেশ থেকে আসে। তার কাছ থেকে সে অন্য কোন দেশের নোট সংগ্রহ করবে। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু অথবা পরিচিত কেউ আসলেই তার কাছ থেকে সে নোট সংগ্রহ করে। একই সাথে সে নিজের এলাকার মুরুব্বিদের কাছ থেকে পাকিস্তান ও বৃটিশ আমলে প্রচলিত পয়সা সংগ্রহ করেন।তার সংগ্রহে এখন ৩৪টি দেশের মুদ্রা রয়েছে।শুকরের আগ্রহ এখন তার মুদ্রার সংগ্রহ শালার বিষয়ে মানুষ জানুক।
সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষের ভালোলাগার মধ্যে আমরা পার্থক্য দেখি। কারো বাহারী ফুলের বাগান করা,কারো সবজি বাগান করা, গান গাওয়া, পশুপালন করা, নাচ শেখাসহ অনেক কিছু। শুকুর তাদের চাইতে একটু ব্যতিক্রম। যদিও এর আগেও আমরা এ রকম মুদ্রা ভালো লাগার মানুষের কথা জেনেছি। তারপরও কোন বিদেশ সফর না করে ৩৪টি দেশের মুদ্রা সংগ্রহ অনেকটা নতুন।
তার পুরা নাম জহিরুল ইসলাম শুকুর(৩৫, গ্রামের মানুষ তাকে ডা. শুকুর নামেই চিনে। এইচএসসির পর আর পড়া শুনার সুযোগ পায়নি সে। এর পর ৬ মসের ফার্মেসি কোস করে গ্রামে ওষুধের দোকান দেন।যে সকল মানুষ হাসফাতালে গিয়ে ডাক্তার দেখানোর সুযোগ পান না। তারা তার কাছে থেকেই রোগের কথা বলে ওষুধ কিনে নেন।
জহিরুলের বাড়ি টাঙ্গাইল পৌর এলাকা কাগমারা উত্তর পাড়ায়,তার পিতার নাম মো. জুরান আলী মাতাব্বর।
সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের ধরেরবাড়ী বাজারে তার ওষুদের দোকান । একই সাথে সে স্থানীয় ধরেরবাড়ী হাইস্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য।
জহিরুল জানান,গত ২৪ বছরে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে ৩৪টি দেশের মুদ্রা সংগ্রহ করেছে সে। ১৯৯২ সাল থেকে প্রবাসী ব্যক্তিদের নিকট থেকে টাকার বিনিময়ে মুদ্রা সংগ্রহ শুরু করে।
তিনি জানান, আমার ছোট বেলা থেকে খুব শখ ছিলো যে আমি সব দেশের টাকার সংগ্রহ করবো। কিন্তু সব দেশের টাকা সংগ্রহ করতে না পারলেও বেশ কিছু দেশের টাকা সংগ্রহ করতে পেরেছি। আমি এখনও চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি যদি অন্য কোন দেশের টাকা পাই সেটাও আমি সংগ্রহ করবো। টাকা গুলো আমি আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করেছি। এখন কেউ আমার দোকানে আসলে তাদেরকে আমি সংগ্রহে থাকা মুদ্রাগুলো দেখাই।আমার ভালো লাগে।
জহিরুল বলেন, আমি চাই মানুষ জানুক এবং দেখুন আমার সংগ্রহের মুদ্রা গুলো।
তার কাছে এখন যে সকল দেশের মুদ্রা রয়েছে তার একটি তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো: চায়নার ৫ টাকার নোট, আমেরিকার ১৬ ডলার, ইন্দোনেশিয়া ৫ হাজার লিমা রিবুরুপি, কুয়েতের ১/২ ডিনার, সৌদির ৫ রিয়াল, পাকিস্থানের ২০ রুপি, সোমলিয়া ৫ সিলিন, ওমান ১০০ বাইসা, ইথুপিয়ার ১ বির, নেপালের ১০রুপি, তাইওয়ানের ১০০, লিবিয়ার ১ রিয়াল, মরোক্ক ১০ দিরহাম, জাপান ১০০ ইথেন, দুবাই ৫ দিরহাম, কাতার ১ রিয়াল. ফিলিপাইন ২০, বাথরাইন ১ দিনার, সিঙ্গাপুর ২ ডলার, আফগানিস্থান ২ আফগানি, মিশর ২৫ পেইষ্টার, ইন্ডিয়া ১০ রুপি, সুদান ২৫ পেইস্টার, পিপজিন ১০০, মিয়ানমার ১ কিয়াত, দক্ষিণ কুরিয়া ১০০০ অন, অষ্ট্রেলিয়া ৫ ডলার, তুরস্ক ১০০০০০০ বির মিলিয়ন/লিরাসি, মালেশিয়া ১০ রিংগিত, ইরান ১০০০ সিম, দুলিবান ১০০০ মিলিলিবার, থাইলেন্ড ২০ বাথ, ইয়েমেন ১ আইজিও এবং সাউথ আফ্রিকা ১০০ উইকিপিডিয়াসহ বাংলাদেশের হাফ আনা, ১ আনা, ১ পয়সা, ১০পয়সা, ২৫ পয়সা, ৫০পয়সা ১ টাকার নোট,কয়েন, ২ টাকার নোট, পুরাতন ৫ টাকা, ১০ টাকা, ৫০টাকা, ১০০ টাকা, ৫০০ টাকার নোট গুলো সে সংরক্ষন করেছেন।
জারিফ





