বর্ষায় নৌকা আর গ্রীষ্মে নদীর পানি কম হয়ে আসলে বাঁশের সাঁকোই পরাপারের একমাত্র ভরসা। নদীতে যখন সারা বছর জুড়ে স্রোত থাকত এবং পানি খুব একটা কমে আসত না, তখন নৌকাই পারাপারের একমাত্র ভরসা ছিল।

কখন বা কোন সময় থেকে এখানে এমনভাবে আশপাশের গ্রামের মানুষ পারাপার হচ্ছে সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে জমিদারি আমল থেকেই ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ১৮/২০ গ্রামের লোকজন নাগিরাট কুমার নদের এই ঘাট ব্যবহার হচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নাগিরাট-বকসিপুর এই ঘাটটি দীর্ঘদিন যাবৎেআশপাশের ১৮ থেকে ২০টি গ্রামের লোকজন পারাপারের জন্য ব্যবহার করে আসছে। এই গ্রামগুলোতে অধিকাংশই কৃষকের বসবাস রয়েছে।

কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারের নেওয়ার জন্য আগে নৌকা ব্যবহার করত। নদীপার হয়ে আসলেই বকসিপুর বাজার। এখানে সপ্তাহে একবার বাজার বসে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে তবে আসে। অথচ একটা সেতু হলেই খুব সহজে নদী পার হয়ে বাজারে আসতে পারা যেতো। নৌকায় করে পণ্য এপারে আনতেও নানা সমস্যায় পড়তে হয় তাদের।

মাঝি খলিল হোসেন বলেন, ‘কবে থেকে এ ঘাট দিয়ে নৌকায় লোকজন পারাপার হচ্ছে সঠিকভাবে বলতে পারি না। তবে শুনেছি, শৈলকুপার জমিদার আমলের আগে থেকে এখানে নৌকায় করে লোকজন পারাপার হচ্ছে। আমার দাদাও এই ঘাটে নৌকায় করে লোকজন পারাপার করেছে। তবে নদীতে আর আগের মতো পানি থাকে না। বর্তমানে নদীতে পানি কমে এসেছে এখন বাঁশের সাঁকো দিয়ে লোকজন পরাপার হয়। আর বর্ষায় নৌকায় করে পার হতে হয়।’

ওই এলাকার রবিউল হক নামের একজন বলেন, ‘বাঁশের সাঁকোটি আমি নিজ উদ্যোগে তৈরি করেছি। সাঁকোটি তৈরি করতে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তবে লোকজন পার হওয়ার সময়ে ইচ্ছে মতো কিছু টাকা দিয়ে যায়। তবে কারো কাছে তার জোর নেই। আবার অনেকে টাকা দেয় না। তাতেও কোনো ক্ষোভ নেই।’

স্কুলছাত্র মামুন জানায়, নাগিরাটের স্কুলে যেতে হলে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের নদী পার হতে হয়। এ নিয়ে বাড়িতে অবিভাবকরা খুবই চিন্তায় থাকেন।

স্কুল শিক্ষক কামাল হোসেন জানান, এ এলাকার লোকজনের পারাপারের জন্য ভরসা বর্ষায় নৌকা আর গ্রীষ্মে বাঁশের সাঁকো। এখানে লোকজনের কথা বিবেচনা করে ও কৃষকদের সুবিধার জন্য সেতু নির্মাণ করা দরকার।

 এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রকিব উল আলম জানান, নাগিরাট-বকসিপুর সংযোগ সেতুসহ প্রায় ১০টি সেতু নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেতুগুলো নির্মাণ করা হবে।

জেআই