জঙ্গি হামলায় যারা জড়িত এবং যারা তাদের মদদ দেয়, তাদের ‘চিরতরে নির্মূল’ করতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

এ বিষয়ে সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা দিতে জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেছেন, হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বন্ধুপ্রতীম বিদেশি নাগরিকদের নৃশংসভাবে হত্যা এবং ঈদুল ফিতরের দিন শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলা গোটা দেশবাসীকে শুধু হতবিহ্বল করেনি, গভীরভাবে ব্যথিত ও শোকাহতও করেছে।

“দেশবাসী এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কখনো সমর্থন করে না, কারণ বাঙালি চিরকালই শান্তিপ্রিয় জাতি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাঙালি সংস্কৃতির অনন্য ঐতিহ্য। তাই এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এ দেশের জনগণ কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।”

বুধবার বিকেলে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “সন্ত্রাসী ও তাদের মদদদাতাদের সমূলে চিরতরে উৎপাটনের জন্য আমি দেশবাসীকে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানাই এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সার্বিক সহায়তা করার অনুরোধ জানাই।”

গত ১ জুলাই গুলশানে নজিরবিহীন সেই জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২২ জন নিহত হন। এর সাত দিনের মাথায় ঈদের সকালে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতের পথে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন দুই পুলিশ সদস্য। ওই ঘটনায় গুলিতে স্থানীয় এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়।

ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি হামিদ বাংলাদেশের ভিভিআইপিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পিজিআরকে আরও চৌকস হওয়ার আহ্বান জানান।

“আপনারা জানেন, দেশে এবং বহির্বিশ্বে আজ বহুমুখী সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এবং সেই সাথে জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সন্ত্রাস এখন আর কোনো একক দেশের সমস্যা নয়। এটি বৈশ্বিক সমস্যা।

“বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সাথে সাথে বিশ্ব জুড়ে সন্ত্রাস ও অপরাধের ধরনও পাল্টাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভিভিআইপিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন যুগোপযোগী ও মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ। এ লক্ষ্যে পিজিআরের প্রতিটি সদস্যকে আরও চৌকস ও দক্ষ হতে হবে, যাতে উদ্ভূত যে কোনো পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করতে পারে।”

ভিভিআইপিদের জনসম্পৃক্ততা অব্যাহত রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, “পিজিআর এর মূল দায়িত্ব হচ্ছে ভিভিআইপিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে তা হতে হবে সর্বাত্মক, সমন্বিত ও নিশ্ছিদ্র। সেই সাথে ভিভিআইপিদের জনসংযোগের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, জনগণ থেকে দূরত্ব সৃষ্টি করে নয় বরং জনসম্পৃক্ততা অব্যাহত রেখে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে আপনাদের কৃতিত্ব।”

সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আবদুল হামিদ পিজিআর সদস্যদের ‘চেইন অব কমান্ড’ এর প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধাশীল থেকে দায়িত্ব পালনেরও আহ্বান জানান।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই পিজিআর প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি সরকার প্রধানের নিরাপত্তার দায়িত্ব এই রেজিমেন্টের ওপর বর্তায়।

পিজিআর সদস্যদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, “একটি পেশাদার সেনাবাহিনীর অংশ হিসেবে সমসাময়িক বাস্তবতার পাশাপাশি অতীত ইতিহাস ও ঘটনা প্রবাহ থেকেও আপনাদের অনেক কিছু শিখতে হবে। অতীত ও বর্তমানের সোপান বেয়েই আপনাদের ঐক্যবদ্ধভাবে আলোকিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, ভবিষ্যৎ সাফল্য অর্জন করতে হলে আপনাদের অতীত সম্পর্কেও যথেষ্ট জ্ঞান রাখতে হবে।”

অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং পিজিআর সদস্যদের সঙ্গে ছবি তোলেন।

সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, পিজিআর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর হারুনসহ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এমআইএস/ইআর