রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও এর আশপাশের এলাকা টমেটো চাষের জন্য বিখ্যাত। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কদর রয়েছে এখানকার টমেটোর।

কিন্তু টানা অবরোধে দ্বিগুন ট্রাকভাড়া গুনেও টমেটোভর্তি গাড়ি ঢাকায় ঢুকতে পারছে না। এ কারণে শত শত মণ টমেটো কৃষকের উঠানেই পচে যাচ্ছে। ক্ষতির টাকা গুনতে হচ্ছে চাষীদের।

চলতি মৌসুমে কোটি টাকা ক্ষতির শিকার হয়েছেন জেলার টমেটো চাষীরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অবরোধের আগেও গোদাগাড়ীতে প্রতিমণ পাকা টমেটো ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এক সপ্তাহের ব্যবধানে গোদাগাড়ীতে এখন আর টমেটো কিনছেন না স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

তবে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে যে সব টমেটো ব্যবসায়ী গোদাগাড়ীতে এসেছেন তারা খালি হাতে ফিরে না গিয়ে ক্যারেট প্রতি গড়ে ৩০-৪০ টাকা দরে টমেটো কিনছেন। এ অবস্থায় মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষীরা। তাই অধিকাংশ টমেটো চাষী তাদের টমেটো জমিতে গাছসহ হাল চাষ করছেন।

ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে গোদাগাড়ীতে টমেটো কিনতে আসা ‘আলহামদুলিল্লাহ বাণিজ্যলয়’র পরিচালক ইলিয়াস আলী বলেন, ‘অবরোধের কারণে ঢাকাসহ বিভিন্ন নগর থেকে টমেটো কিনতে পাইকাররা আসছেন না। টমেটো কিনে অবরোধের ফাঁদে পড়তে হচ্ছে। তাই বাজারে ব্যাপক চাহিদা সত্ত্বেও তা সরবরাহ করা দুরূহ হয়ে পড়েছে।’ চলতি মৌসুমে আড়াই লাখ টাকা লোকসান হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি এলাকার টমেটো ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী বলেন, ‘বর্তমানে গোদাগাড়ীতে পানির দামে টমেটো কিনেও বাড়তি ভাড়া এবং অন্যান্য খরচের কারণে পাইকারি ব্যবসায়ীরা টমেটো নিয়েও লাভের আশা করতে পারছেন না। এ কারণে তিনি আর টমেটো কিনছেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে গচ্ছা দিয়েছেন প্রায় তিন লাখ টাকা।’

মহিষালবাড়ির টমেটোচাষী মতিউর রহমান বলেন, ‘উঠানে পড়ে আছে কমপক্ষে ৫০ মণ পাকা টমেটো। অথচ ক্রেতা নেই। অপেক্ষা পচনের, প্রতিদিনই পচছে। ফেলে দেওয়াও হচ্ছে। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে না।’

মতিউর আরও বলেন, ‘জমি থেকে অন্তত আরও তিন দফা টমেটো তোলা যেত। কিন্তু আগের দফার টমেটোই বিক্রি হয়নি। টমেটো তুলে আর কি করবেন? তাই টমেটো থাকা অবস্থায় তিন বিঘা জমিতে হাল চাষ করে দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের টমেটোচাষী আশরাফ আলী বলেন, ‘দেশে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি না আসলে টমেটোর দাম এভাবে কমে যেত না, কৃষকের মেরুদণ্ডও ভাঙত না।’

রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আলমগীর কবির বলেন, ‘প্রতিদিনই পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি পাহারায় পণ্যবাহী ট্রাক রাজশাহী পার করে দেওয়া হচ্ছে।

এরপরও দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পণ্যবাহী ট্রাক মধ্য শহর হয়ে মহাসড়কে পারাপারের জন্য ছয়টি ইউনিট কাজ করছে।’

কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমেও এ উপজেলায় দুই হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের টমেটোর চাষ হয়েছে। প্রতিবছর এখানে টমেটোকেন্দ্রিক প্রায় চারশ’ কোটি টাকার কারবার হয়। তবে চলতি মৌসুমে টানা অবরোধের কারণে কারবারে ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এসএইচ