গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের কামিম সরকার রিন্টু মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। রিন্টু থাই-ভিয়েতনাম প্রজাতির মাছ চাষ করে অল্পদিনে ভাগ্যর চাকা ঘুরিয়েছেন। উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের মরহুম মকবুল হোসেন মাস্টারের ছোট ছেলে কামিম সরকার রিন্টু।
কামিম সরকার রিন্টু বলেন, বাবা-মা, ভাই-বোনসহ আট সদস্যের পরিবারের হাল ধরতে ২০০৯ সালে গ্রামীণ ব্যাংকে চাকরি নেই। ভালো না লাগায় মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে চাকরি ছেড়ে বাড়ি চলে আসি। চাকরি ছেড়ে দিয়ে কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। বাবা-মায়ের সংসারে অর্থনৈতিক সহায়তার জন্য বিভিন্ন মৌসুমি ব্যবসা করছিলাম।
এক পর্যায়ে এলাকার মাছচাষিদের উন্নতি দেখে নিজেও মাছ চাষ শুরু করবো বলে সিদ্ধান্ত নেই। পরে থাই-ভিয়েতনাম প্রজাতির কই ও শিং মাছ চাষের সিদ্ধান্ত নেই। শুধু তাই নয় কই ও শিং মাছ চাষ করবো ভেবে এলাকার অভিজ্ঞদের কাছে মাছের চাষের প্রাথমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করি।
রিন্টু বলেন, ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে নিজের মাত্র ৩০ শতাংশ জমি নিয়ে ছোট একটি পুকুর খনন করি। পুকুরে থাইল্যান্ড প্রজাতির কই ও শিং চাষের মধ্য দিয়ে মাছ চাষ শুরু করি। ওই পুকুরে নিজেসহ অন্যদের সহায়তায় পোনা মাছগুলো প্রায় তিন মাস পর বিক্রি করি। এভাবে তিন বছর ধরে থাইল্যান্ড-ভিয়েতনাম প্রজাতির কই ও শিং মাছ চাষ করে মা-ভাইবোনদের সংসারে আর্থিক সহায়তা করি।
রিন্টু আরও বলেন, মাছ চাষ করে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে মাছ চাষের জন্য ৩০ শতাংশ জমির সঙ্গে আরও ৫০ শতাংশ জমিতে পুকুর খনন করি।
রিন্টু তার প্রতিষ্ঠানের নাম দেন ‘রাজন মৎস্য খামার’। ওই মৎস্য খামারে এখন ৮০ শতাংশ জমিতে কই ও শিং মাছ চাষ হচ্ছে।
মাছ চাষে সফলতার ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে চাষযোগ্য জমির (পুকুর) পরিমাণ বাড়াতে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। ৮০ শতাংশ পরিমাণ জমিতে মাছ চাষ করতে বার্ষিক ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২২ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে উৎপাদিত মাছ ৩৩ লাখ টাকায় বিক্রি করি। রিন্টু বছরে নিট মুনাফা করেন ১১ লাখ টাকা। এ হিসেবে প্রতি মাসে মাছ চাষে সকল ব্যয় মিটিয়ে নিট মুনাফা করেন প্রায় এক লাখ টাকা। এ মাছ চাষের অর্জিত সাফল্যে তিনি বর্তমানে আত্মনির্ভরশীল।
রিন্টু জানান, তার মৎস্য খামারে পোনা ছাড়ার তিন মাসের ব্যবধানে প্রতি শতাংশে তিন মণ কই ও শিং মাছ উৎপাদন হচ্ছে। যার বর্তমান পাইকারি বাজার মূল্য প্রতি মণ কই ১২ হাজার ও প্রতি মণ শিং ১৮ হাজার টাকা।
রিন্টু আরও জানান, বিগত ২০১১ সাল থেকে রাজন মৎস্য খামারের চাষাবাদ শুরু করলেও এ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থা তার এ স্বাবলম্বী হওয়ার নেপথ্যে ন্যূনতম ভূমিকা রাখেনি। সম্পূর্ণ নিজের প্রচেষ্টায় রিন্টু এ পর্যন্ত এগিয়েছেন।
পলাশবাড়ী উপজেলা মৎস্য অফিসার ড. আফতাব হোসেন বলেন, রিন্টুর মৎস্য চাষ প্রকল্পের সম্প্রসারণ ও উন্নত প্রজাতির মাছ চাষে তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, রিন্টুকে মৎস্য খাতে প্রচলিত সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়াও ব্যাংক ঋণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঢাকা, ১৪ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





