মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের বড়খড়ি গ্রামের প্রতিবন্ধী যুবক বাবুল আক্তার (৩০)। মাশরুম চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়ে গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পেয়েছেন জাতীয় বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার ও জাতীয় যুব পদক।
একই সঙ্গে তার প্রতিষ্ঠান ড্রিম মাশরুম সেন্টার গত বছর প্রতিষ্ঠার ১ যুগ পূর্ণ করছে। এ উপলক্ষে সম্প্রতি তার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২শ কর্মকর্তা-কর্মচারি ও এলাকাবাসি জমকালো সম্বর্ধনা দিয়েছে এই সফল কৃষি ও শিল্প উদ্যোক্তাকে।
এটি কোন রাতে দেখা স্বপ্ন নয়। রীতিমত সত্য হওয়া স্বপ্নের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এ যেন আঙ্গুল ফুলে বটগাছ হয়ে ওঠার গল্প। বাবুল আক্তার জানান- ১৩ বছর আগে প্রতিবেশীর কাছ থেকে মাত্র ১শ টাকা ঋন নিয়ে তিনি যশোর যান মাশরুমের উপর একটি প্রশিক্ষণ নিতে। সেই থেকে শুরু। আর পেছন ফিরে তাকাননি তিনি।
নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধীতাকে তুচ্ছ করে বাবুল আক্তার হয়ে উঠলেন বড়খড়ি গ্রামের সকলের কাছে প্রিয় বাবুল ভাই। যশোর থেকে ফিরে নিজ বাড়িতে একটি ছোট্ট মাশরুম সেন্টার শুরু করেন। নাম দেন ড্রিম মাশরুম সেন্টার। স্বপ্ন বোনেন অনেক বড় কিছু হওয়ার। সেই স্বপ্নকে এখন বাস্তবে রূপ দিয়েছেন বাবুল। ক্রমে ক্রমে তিনি নিজ বাড়ির আঙ্গিনার মাশরুম চাষকে ছড়িয়ে দেন পুরো গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে।
মাশরুম নিয়ে এখন তার পুজি কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা। নিজ বাড়িতে দিয়েছেন সুন্দর সুন্দর ঘর। গড়ে তুলেছেন মাশরুম নিয়ে রিচার্স সেন্টার। যেখান থেকে মাশরুমের আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে চলছে নানা রকমের গবেষনা ও কর্মকান্ড। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন এখানে।
সেই সঙ্গে তার ও গ্রামে ছোট ছোট উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত মাশরুম সংগ্রহ করে তা প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত করেন তিনি। এরফলে কোন ঝক্কি ঝামেলা ছাড়াই মাশরুম বাজারজাত করতে পারেন গ্রামের অন্তত ২শ মাশরুম চাষি পরিবার। গ্রামে বসেই মাশরুমের উপযুক্ত মূল্য পেয়ে খুশি থাকেন তারা।
এসব মাশরুম চাষির মধ্যে বেশীর ভাগই নারী। দারিদ্রের কারণে নিজে মাত্র ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করলেও মাশরুম প্রক্রিয়াজাত, গবেষণা, উন্নয়ন ও বাজারজাত করার জন্য সারাদেশে তার ২শ উচ্চ শিক্ষিত কর্মী কাজ করেন।
তিনি বলেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত বছরের ১মার্চে জাতীয় কৃষি পদক ও ১ নভেম্বর জাতীয় যুব পদক তুলে দেন আমার হাতে। যা আমাকে আরো সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে সার্বোক্ষনিক অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।
সাইফুল্লাহ/এমআর





