দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। সরকারী হিসেবে বর্তমানে ডেঙ্গুতে দেশের ৬৪ জেলা আ্ক্রান্ত। সর্বশেষ বাদ পড়া নেত্রকোনা ও বরগুনা থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার খবর এসেছে। এদিকে দেশের সাথে সাথে হাসপাতালগুলো প্রায় পরিপূর্ণ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী দিয়ে। অনেক হাসপাতালে বেডে জায়গার অভাবে মেঝেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীদের।

সর্বশেষ সরকারি হিসেব মতে গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৭১২ জন। এ নিয়ে সারাদেশে মোট ১৯৫১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি আছে। যদিও বেসরকারি হিসেব মতো আরো অনেক বেশি।

এছাড়া সরকারি হিসেবে এ পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যুর নিশ্চিত করা হলেও বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য বলছে মৃতের সংখ্যা অর্ধশতাধিক ছাড়িয়েছে। প্রতিদিনই ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে ডেঙ্গুতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। ডেঙ্গুতে গত কয়েকদিনের মৃত্যুতে এ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যার কারণে সাধারণ জ্বর হলেও আতঙ্কে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে অনেকে।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত কয়েকদিনে যাদের মৃত্যু হয়:

এসআই কোহিনুর : ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পুলিশের এসআই ভূঞাপুরের কোহিনুরের (৩৩) মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত অবস্থায় প্রথমে তিনি ছিলেন রাজারবাগ পুলিশলাইনস হাসপাতালে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে মোহাম্মদপুর সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

গতকাল বুধবার রাজারবাগে সকাল সাড়ে ৯টায় তার প্রথম জানাজা এবং গ্রামের বাড়ি ভূঞাপুরের অর্জুনায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। কোহিনুরের সর্বশেষ কর্মস্থল ছিল পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে।

জানা যায়, কোহিনুর সিটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গুরুতর অবস্থায় সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ক্রমেই তার অবস্থার অবনতি হয়। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে কোহিনুরকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। তাহিয়া নামে তার ১৮ মাসের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

গৌরনদীতে নারীর মৃত্যু : গৌরনদী উপজেলার পশ্চিম আশোকাঠী গ্রামে মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে আলেয়া বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল মান্নান ফকিরের স্ত্রী। গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালের আবাথসিক মেথডিক্যাল অথফিসার ডা: মাহবুব আলম মির্জা মৃতের স্বজনদের বরাত দিয়ে জানান, আলেয়া বেগম ঢাকায় বেড়াতে গিয়ে জ্বর নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি প্রাইভেট চিকিৎসক দেথখিয়ে বাথইরের একথটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান।

পরীক্ষার রিপোর্টে ডেঙ্গুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে আলেয়াকে নিয়ে তার স্বজনরা চিথকিৎসার জন্য গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়। এর আগে মঙ্গলবার সকালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই যুবক মারা গেছেন। এ দিকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত শেবাচিম হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫০ রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

কাউখালীতে কিশোরের মৃত্যু : উপজেলার গোসনতারা গ্রামের আদম আলীর পুত্র সোহেল (১৫) ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। সোহেল গত সোমবার প্রথমে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয়, পরে বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার মারা যায়। এ দিকে আতঙ্কে দিনের বেলায়ও উপজেলার অনেকেই তাদের শিশুসন্তানকে মশারির নিচে রাখছেন।

স্কুল শিক্ষিকার মৃত্যু : শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জবর আলী আকনকান্দি গ্রামের বর্ষা আক্তার (২৬) নামে এক স্কুলশিক্ষিকা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকার সাইনবোর্ড এলাকার বেসরকারি একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। তিনি শরীয়তপুরের জাজিরার শাহেদ আলী মাদবরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। এ ছাড়াও জেলায় গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৫ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর তাদের ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই আকনকান্দি গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী বর্ষা (২৬) জ্বরে আক্রান্ত হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরের দিন তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু সেখানে ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি। এরপর গত শনিবার তাকে সাইনবোর্ড এলাকায় প্রোঅ্যাকটিভ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একপর্যায়ে মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

এর আগে সিলেটে একজন সিভিল সার্জন ও ঢাকাতে একজন চিকিৎসকের মৃত্যু হয় ডেঙ্গুতে। এছাড়া সারাদেশে ছড়িয়ে ক্রমান্বয়ে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।


জেড