“শেখ হাসিনা সরকার হামলা-মামলার মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে আছে। তারা পুরো দেশটাকে কারাগারে পরিণত করেছে। বিরোধী জোটের কোনো নেতাকর্মী আজ মামলার বাইরে নেই। দেশে আজ আর কোনো গণতন্ত্র নেই।”২০ দলীয় জোট নেতা বেগম খালেদা জিয়া শেখ হাসিনাকে ‘নব্য হিটলার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, “মানুষ বলে শেখ হাসিনা স্বৈরাচার। আমি বলবো তিনি শুধু স্বৈরাচার নন, তিনি নব্য হিটলার। হিটলারের মতো তিনি মানুষ হত্যা করছেন।”

শনিবার বিকালে নাটোরের নবাব সিরাজউদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে ২০ দলীয় জোটের জনসভায় খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “দেশে প্রতিনিয়ত গুম, খুন চলছে। জনগণের নিরাপত্তা নেই। এভাবে দেশ চলতে পারে না। চলতে দেয়া যায় না।”

তিনি আরো বলেন, “আজ সারাদেশে বিদ্যুৎ নেই। সরকার লুটপাটের জন্য বারবার বিদ্যুৎ, গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। এখন আবার দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে। এবার দাম বাড়ালে জনগণ মেনে নেবে না।”

এ দেশে বিনিয়োগ আসছে না অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, “দেশি বিদেশি কেউ বিনিয়োগ করতে সাহস পাচ্ছে না। কেউ বিনিয়োগ করলেই ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগকে চাঁদা দিতে হয়। তাই দেশে বিনিয়োগ হচ্ছে না। দেশে দরিদ্রতা বেড়ে যাচ্ছে।”

সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, “পাসের সংখ্যা বেশি দেখিয়ে তারা বাহবা নিচ্ছে। আজ হাসিনা ঘরে ঘরে বেকার তৈরি করছেন। তারা এটা সুপরিকল্পিতভাবে করছে। এই ষড়যন্ত্র চলতে পারে না, চলতে দেয়া যায় না।”

সরকার একে একে সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিচ্ছে মন্তব্য করে চেয়ারপারসন বলেন, “সরকার বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ, দুদক, স্বাস্থ্যখাত, শিক্ষাখাত ধ্বংস করে দিচ্ছে। তারা বিচারপতিদের অভিসংশোনের আইন পাস করে বিচারপতিদের চাপের মধ্যে রাখছে। সরকারের মতো রায় না দিলে তাদের পদ হারাতে হবে। এখন শিক্ষাকে এমনভাবে ধ্বংস করা হয়েছে- যে গড়ে সবাই জিপিএ ফাইভ পাচ্ছে।”

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য উন্নতি। দেশের উন্নতি। জনগণের মঙ্গল। আর এ সরকারের উদ্দেশ্য লুটপাট। তারা লুটপাট করে দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা বিদেশ থেকে সাহায্য আনে তা জনগণের কপালে জোটে না। তা নিজেরা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়।”
নাটোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, শমসের মোবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাসসুজ্জামান দুদু, ডা. জেড এম জাহিদ, যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু প্রমুখ।

২০ দলের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন কল্যাণপার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মাদ ইব্রাহীম বীর প্রতীক, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান মাওলানা ইসহাক।
জেআই