কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি বাড়া অব্যাহত আছে। এতে সিরাজগঞ্জের নদী বেষ্টিত চরাঞ্চলের অন্তত সাড়ে ৯০০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যা কবলিত এসব এলাকার ফসলি জমি ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ৩০ হাজার পরিবার।
যমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় আরও বেড়ে গেছে। যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ও কাজিপুর পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আজ বুধবার সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১৪ দশমিক শূন্য ৩ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হাসান সিদ্দিক জানান, যমুনা নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ভাঙন। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। উপজেলার বাঐখোলায় বাঁধে ধস নামলে তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পাউবো।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তিন দিন ধরে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলো প্লাবিত হচ্ছে। ফলে জেলার কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার নদী তীরবর্তী অন্তত ৩৫টি ইউনিয়নে ৯৩৬ গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এক লাখ ৬৮ হাজার ১০ জন, এক হাজার ৮৬টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও ২০ হাজার ৪০০ ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, যমুনার পানি দ্রুত বাড়ায় চরাঞ্চল অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। দুপুর পর্যন্ত ৫টি উপজেলার ৯৩৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বন্যা কবলিত গ্রামের ২১ হাজার ৫৫২ পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যার্তদের বিতরণের জন্য ৪৯৪ টন চাল ও ৮ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হলে এগুলো বিতরণ করা হবে।
এএস





