আটক সোনার বারআত্মসাৎ পুলিশের বিরুদ্ধে রামপুরা থানার মামলায় ১২ পুলিশসহ ১৯ জনকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক যতন কুমার রায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার ও ২৮ সেপ্টেম্বর তাদেরকে দুদক কার্যালয়ে হাজির থাকতে বলা হয়েছে।

আগামীকাল তলব করা হয়েছে ডিএমপি’রগোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগেরপুলিশ পরিদর্শকমা. ফজলুল হক, এসআই আব্দুল মান্নান, কনস্টেবল মো.দেলোয়ারহোসেন, মো. রহিম, খিলগাঁও জোনের এসি ইকবাল হোসেন, এসআই এ এন এস নুরুজ্জামান, এসআই মো. মাসুদ মিয়া, রাশেদুল ইসলাম, কে এম মেহেদী হাসানকে।

আর ২৮ সেপ্টেম্বর তলব করা হয়েছে, পুলিশের নায়েক মো. সাখাওয়াত হোসেন, কনস্টেবল এ কে আজাদ, মো. বাবুল হাসান, ডেমরা জোনের এসি মাঈনুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক আবুয়াল খায়ের মাতাব্বর, কনস্টেবল মো. সাইফুল আলম, মতিঝিল জোনের এসি জুয়েল রানা, পুলিশ পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম, এ এসআই আবুল বাশার মিয়া ও কনস্টেবল শ্রী নয়ন কুমারকে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর.টাইমরিউজবিডি.কমে ‘পুলিশের সোনার বার আত্মসাৎ মামলা: চাপের মুখে থেমেগেছে দুদকের তদন্ত’ শিরোনামে নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অবশেষে আবার দুদকের তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

জানা যায়, গত ১৩ মার্চ রামপুরা থানা পুলিশ ২৩৫টি সোনার বারসহ একটি প্রাইভেট কার আটক করে। পরে ১৬৫টি বার আত্মসাতের পর মাত্র ৭০টি সোনার বার উদ্ধার দেখানো হয়।

আবার উদ্ধার দেখানো ৭০ টি সোনার বারের মধ্যে ১৬টি সোনার বারেরও কোনো হদিসই মেলেনি।

তবে সোনার বারসহ ধরা পড়ে মাহিন ও সমীর নামে ২ ব্যাক্তি। পুলিশের আত্মসাতের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। তাদের দেয়া তথ্য অনুসারে পুলিশের এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম, কনস্টেবল আকাশ চৌধুরী ও ওয়াহেদুল ইসলাম, ড্রাইভার সজিব সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গত ৭ এপ্রিল রাতে ডিবি’র সাব-ইন্সপেক্টর ফজলুল হক বাদী হয়ে মামলা করেন।

মামলাটি দন্ডবিধির ৪০৯/১০৯/১১৪ ধারা এবং দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় রুজু হয়েছে বিধায় তদন্তের জন্য দুদকে স্থানান্তর হয়। আরএ মামলায় প্রথমে পুলিশের ৩ সদস্যসহ ৫ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে আরো ৩ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

জানা যায়, গত ১৬ জুন রমনা জোনের পুলিশ কর্মকর্তা (পুলিশের এসি) শিবলী নোমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। এর আগে গত ২৭ এপ্রিল জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় রামপুরার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃপা সিন্দু বালা, ওসি (তদন্ত) নাসিম আহমেদ, এসআই কামরুজ্জামানকে।

গত ৭ মে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ডিবির ৯ কর্মকর্তাকে। গ্রেফতারকৃত আসামিসহ অন্তত ২২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় ডিবির ১৯ কর্মকর্তার।

তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে পুলিশের উচ্চ এবং মধ্যম পর্যায়ের বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার নাম বেরিয়ে আসে। আরো বেশ কয়জনকে জিজ্ঞসাবাদের সিদ্ধান্ত ছিল তার।

অবশেষে আবার তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

গত জুলাই মাসে দুদক কর্মকর্তা সোনার বারসহ গ্রেফতারকৃত এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম, কনস্টেবল আকাশ চৌধুরী ও ওয়াহেদুল ইসলাম, ড্রাইভার সজিবের গ্রামের বাড়ি টঙ্গি, কালিয়াকৈর, নারায়ণগঞ্জ এবং বগুড়া সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরে তদন্ত কার্যক্রম হঠাৎ থেমে যায়।

ঢাকা, একে, ২৪ সেপ্টেম্বর. টাইমনিউজবিডি.কম,এসএইচ