র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‘বিশ্বের কোনও দেশই এখন জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ থেকে মুক্ত নয়। নিউজিল্যান্ডে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা তাই প্রমাণ করে।
জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সফল হয়েছে, তবে এ ব্যাপারে তৃপ্ত হওয়া যাবে না। তৃপ্ত হলেই ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ-উগ্রবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা, এটি বৈশ্বিক অভিশাপ। বিশ্বের কোনো দেশই সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়। আমাদের সবাই মিলেই এ বিষয়টি মোকাবিলা করতে হবে।’
শনিবার বাংলাদেশ চলচিত্র উন্নয়ন সংস্থা (বিএফডিসি)’র অডিটোরিয়ামে হিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে তথ্যপ্রযুক্তির নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বিষয়ে এক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সম্প্রীতি প্রকল্প।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘জানতে চাওয়াটা মানুষের অধিকার। আমরাও এটা বিশ্বাস করি। তবে পাশাপাশি জানার অধিকার দেখাতে গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার যেন কেউ না করে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের ইসলামিক স্কলারদের এগিয়ে আসতে হবে। ইসলাম ধর্ম যে আধুনিক ও সব যুগের জন্যই পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান তা বোঝাতে হবে এবং ধর্মের নামে যে উগ্রবাদি চিন্তা বা মতবাদকে বন্ধে কার্যকরী দিকনির্দেশনা দিতে হবে।’
বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘যত বেশি আলো, তত বেশি উত্তাপ। আবার যত বেশি উত্তাপ তত বেশি আলো। একটি মতবাদকে মোকাবিলা করতে হলে আরেকটি মতবাদের প্রয়োজন। একটি খারাপ আইডিয়াকে ভালো আইডিয়া দিয়েই মোকাবিলা করতে হবে।’
র্যাবের মহাপরিচালক বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির যখন অবাধ প্রচলন ছিল না, তখন চারু মজুমদাররা নকশাল করেছে। তখন তো আমাদের দেশে টেলিফোনই ভালো করে কাজ করতো না। আমরা এখন প্রিন্টেট বই পড়ি না। ইন্টারনেট থেকে পড়ি। কিন্তু চারু মজুমদারের উগ্রবাদী ধারণার কারণে কীভাবে খুবই মেধাবি তরুণরা ধ্বংস হয়ে গেছে তা জানতে হবে।’ এজন্য সমরেশ মজুমদারের লেখা কালবেলা পড়ার অনুরোধও জানান তিনি।
বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘ইন্টারনেটে বিলিয়ন বিলিয়ন তথ্য রয়েছে। মূল ব্যাপার হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিনে আমি কী খুঁজছি। আমি কি উগ্রবাদের ম্যাটারিয়েল খুঁজছি নাকি উগ্রবাদের বিরুদ্ধে। ইসলামের বিরুদ্ধে যে কথাগুলো বলে ইসলামকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে তাও আছে ইন্টারনেটে। আবার ইসলামের সঠিক কথাটাও আছে ইন্টারনেটে। আমরা আসলে কোনটা গ্রহণ করবো, কোনটা গ্রহণ করবো না আমাদের সেটা আগে ঠিক করতে হবে। বুঝে, যাচাই করে নিতে হবে সঠিকটা।’
ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দারুন নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসাকে হারিয়ে লালমাটিয়া মহিলা কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হন।
এসএম





