থাইল্যান্ডের প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার সুপারিশ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কমিটির এক বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অগ্রগতি ও মিয়ানমারের সর্বশেষ অবস্থান নিয়ে আলোচনার পর এই সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খানের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ.কে. আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম, মো: আব্দুল মজিদ খান, মো: হাবিবে মিল্লাত, নাহিম রাজ্জাক, কাজী নাবিল আহমেদ এবং নিজাম উদ্দিন জলিল (জন) অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে দেশের ভাবমর্যাদা রক্ষায় এবং নিরীহ মানুষকে রক্ষায় জন্য অবৈধ মানব পাচারে জড়িত বাংলাদেশী দালাল চক্রের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, জার্মানী ও যুক্তরাজ্যেসহ বিভিন্ন দূতাবাসে বাংলাদেশী নাগরিক বিশেষ করে সিনিয়র নাগরিকদের জন্য ভিসা পাওয়ার বিষয়টি সহজতর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার পাশাপাশি যারা সঠিক ভিসা প্রার্থী তারা যাতে হয়রানির শিকার না হন সেজন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে সরকারীভাবে বিদেশে প্রশিক্ষণে জন্য উপযুক্ত কর্মকর্তা নির্বাচন এবং এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে যাতে অবহিত রাখা হয় সেজন্য বিষয়টি কেবিনেট ডিভিশনকে অবহিত করনের মাধ্যমে নির্দেশনা গ্রহণের লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি কেবিনেট ডিভিশনে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে বিদেশে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের দেশে ফেরত আনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে সেজন্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: শহীদুল হক, মেরিটাইম এফেয়ার্স ইউনিটের সচিব খোরশেদ আলম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র-বৌদ্ধরা মুসলমানদের উপর নতুন করে গণহত্যা-ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ চালাতে থাকে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আরও প্রায় ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়ে আছে।

পুরনোসহ উখিয়া-টেকনাফের ৩১টি শিবিরে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তবে জাতিসঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।

এরপর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় তাদের প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া চালানো হয়। কিন্তু দফায়-দফায় চেষ্টা করেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি।

এমবি