ভারতের বড় লাট লর্ড ক্যানিং ১৮৫৭ সালে 'দ্য অ্যাক্ট অফ ইনকরপোরেশন' পাশ করে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলবোম্বে, কোলকাতা এবং মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়। এ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপিয় মডেলে স্থাপন করা হয়।

১৯০৫ সালে বাংলা প্রেসিডেন্সি ভাগ করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে নতুন এক প্রদেশ করা হয়। যার প্রচলিত নাম বঙ্গভঙ্গ। পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের উন্নতির জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়।

কিন্তু মাত্র ছয় বছরের মধ্যে বঙ্গভঙ্গ বাতিল করতে হয়। কারণ এর মধ্যেই পশ্চিম বঙ্গের হিন্দু নেতারা প্রবল আন্দোলন করেন বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে।

ফলে মুসলমানরা মনে করতে থাকে, অর্থনৈতিক বৈষম্যের সঙ্গে তারা শিক্ষা ক্ষেত্রেও তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এজন্য তাদের মধ্যে ক্ষোভ আরো পুঞ্জিভূত হতে থাকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় প্রতিষ্ঠায় যারা বিরোধিতা করেছিলো:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে বিরোধী ছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় আর রাজনীতিক সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী।

সৈয়দ আবুল মকসুদ তাঁর 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা' বইয়ে এমন তথ্যই উল্লেখ করেছেন।

ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জকে ১৯১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ড. রাসবিহারী ঘোষের নেতৃত্বে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধি করে স্মারকলিপি পেশ করেন।

কিন্তু পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চারটি নতুন অধ্যাপক পদ সৃষ্টির বিনিময়ে আশুতোষ মুখোপাধ্যায় তার বিরোধিতা থেকে সরে আসেন।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে রবীন্দ্রনাথে ভূমিকা কী ছিল সেটা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে বিস্তর লেখালেখি হয়েছে।

যারা বলেছেন রবীন্দ্রনাথ এর বিরোধিতা করেছিলেন তারা নিজেদের দাবির পক্ষে কোনো দালিলিক তথ্য প্রমাণ দেননি। তবে ওই সময় রবীন্দ্রনাথের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিপক্ষে ছিলেন।

যারা পক্ষে কাজ করেছিলেন:

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যে আবশ্যকতা রয়েছে সেটা বোঝাত এবং প্রতিষ্ঠার ব্যাপার অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন যাঁরা তাদের মধ্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ।

১৯১৫ সালে নবাব সলিমুল্লাহের মৃত্যু ঘটলে নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী শক্ত হাতে এই উদ্যোগের হাল ধরেন।

অন্যান্যদের মধ্যে আবুল কাশেম ফজলুল হক উল্লেখযোগ্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় পূর্ব বাংলার হিন্দুরাও এগিয়ে এসেছিলেন। এদের মধ্যে ঢাকার বলিয়াদির জমিদার অন্যতম। জগন্নাথ হলের নামকরণ হয় তার পিতা জগন্নাথ রায় চৌধুরীর নামে। সূত্র: বিবিসি।

এসএম